এই ছবিটি মেসেঞ্জারে পাঠালেন এক মৌলানা সাব। শুধু বললেন, ‘উত্তরবঙ্গ’। মৌলানা সাব অতিব ‘সাধু’ প্রকৃতির লোক। তিনি জানেন, আমি মেয়েদের স্বতন্ত্র বাহনের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে থাকি। গণপরিবহনের কুৎসিত ভিড়বাট্টায় নিজেদের সম্ভ্রম ও ফিজিক্যাল এবিউজ থেকে বাঁচতে মেয়েরা সাইকেল-স্কুটি চালিয়ে যাতায়াত করুক, আমি আগ্রহ সহকারে এটা চাই। আমার কাছে মনে হয়, মেয়েদের জন্য এটা অনেক বেশি সেফ, অনেক বেশি স্বাধীন।
এই ছবিটা দেখে ভালো লাগছে। হয়তো উত্তরবঙ্গের কোনো মহিলা মাদরাসার ছাত্রী মাদরাসা ছুটির পর নিজের বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছে। তাকে বাস বা অটোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। বাস বা অটোর ‘চিপাচাপা’ সিটে পরপুরুষের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতে হয়নি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীনও তাকে হতে হয়নি। যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমি #পর্দানশিন এবং সাধারণ মেয়েদের জন্য এইটুকু নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় আগ্রহ প্রকাশ করি।
উত্তরবঙ্গে মেয়েদের সাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজ বা মাদরাসায় যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। ২০১৫ সালে আমি ঠাকুরগাঁও গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেখানকার মেয়েরা যে সাইকেল চালিয়ে চলাচল করে, এই তথ্য আমি আগে জানতাম না। বিকেলবেলা দেখি চার-পাঁচজন কিশোরী সাইকেল চালিয়ে কোচিংয়ে যাচ্ছে। বাহ! আমি বলে উঠেছিলাম। তখন থেকেই মাথার মধ্যে এই চিন্তা কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা শহরে প্রতিদিন আমি বাসে যাতায়াত করি। প্রতিদিনই বাসে নানা বয়সী নারী যাত্রীদের হেনস্থা হতে দেখি। একজন মুসলমান হিসেবে ‘অপারগতার’ অজুহাত তুলে এই হেনস্থা দেখে যাওয়া আমার জন্য লজ্জার এবং অপমানের।
সুতরাং আপনাদের যাদের সামর্থ্য আছে তারা তাদের কন্যা, বোন, স্ত্রী, বন্ধু ও পরিবারের মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র বাহনের কথা ভাবতে পারেন।