২০২৩ সালের নভেম্বরে আমাদের জময কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। ঠিক ওই সময়টাতে গাজ্জায় শুরু হয় হিজরয়েলের নারকীয় গণহত্যা। সোস্যাল মিডিয়ায় চোখ বুলালেই দেখতাম ফিলিস্তিনী নারী-পুরুষ আর শিশুদের লাশের ছবি। ফুলের মতো শিশুরা রক্তাক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে বোমার নৃশংস আঘাতে। যতবার আমি ফিলিস্তিনী শিশুদের দেখতাম, ততবার তাদের মুখে ভেসে উঠত আমার কন্যাদের চেহারা। আমি আর তাকিয়ে থাকতে পারতাম না। আমি আমার দুই কন্যাকে বুকে জড়িয়ে বোবাকান্নায় ভেঙে পড়তাম।

সদ্য জন্ম নেওয়া ঘুমন্ত কন্যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কখনো কখনো ভাবতাম, আজ গাজ্জায় কত বাবার বুক থেকে ছিন্ন হয়ে গেল তার আদরের কন্যা। কত মা বুক চাপড়ে আছড়ে পড়ছে সন্তানের লাশের পাশে। বুকটা হু হু করত শুধু।
জময কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে—এমন খুশির সংবাদ সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেও ইচ্ছা হয়নি। যখন পৃথিবীর এক প্রান্তে বোমা আর গুলির আঘাতে প্রতি মুহূর্তে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে নিষ্পাপ শিশুর কোমল দেহ, মায়ের বুক থেকে ছিটকে যাচ্ছে সন্তানের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বাবারা বহন করছে ঔরসজাত সন্তানের লাশের খাটিয়া, তখন নতুন দুজন নবজাতিকার সুসংবাদ বড় বেমানান, বড় নির্লজ্জতা!
আজও যখনই ফিলিস্তিনী কোনো শিশুর নিথর দেহ দেখতে পাই ফেসবুকে, দ্রুত স্ক্রল করে চলে যাই, যেন আমারই কন্যারা শুয়ে আছে সাদা পিরহান গায়ে দিয়ে। যেন আমারই কন্যারা আমার কোলে নিথর হয়ে গেছে চিরতরে। আমার হাত অবশ হয়ে আসে।
আর যেসব বাবা ও মায়েরা নিজ হাতে কাফন পরাচ্ছে তাদের বুকের ধনকে, একের পর এক কবর দিচ্ছে গর্ভের সন্তানকে, তাদের বুকের মধ্যে কেমন ধৈর্য? কতটা কষ্ট তারা ধারণ করে আছে বুকের ভেতর ওইটুকু ছোট্ট হৃদয়ে?
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসির…

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published.