সমাজ একদিনে পরিবর্তন হয় না। সামাজিক পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস লাগে। হুট করে আন্দোলন করে বা প্রতিবাদ করে সমাজে পরিবর্তন আসে না। এর দ্বারা সমাজে একটা ইমপ্যাক্ট পড়ে বটে, কিন্তু সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন টেকসই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সেটার বাস্তবায়ন।
শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষত বিগত কয়েক বছর ধরে সরকার প্রণীত শিক্ষা কারিকুলাম সাধারণ অভিভাবক তো বটেই, শিক্ষা বিশেষজ্ঞদেরও হতাশ ও ক্ষোভিত করেছে। শিক্ষা নিয়ে আসলে কী হচ্ছে—আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম দেখে তা বুঝার উপায় নেই।
আশার কথা হচ্ছে, সাধারণ জনগণের ধর্মভীরু অংশ এই শিক্ষা কারিকুলাম ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। ফলশ্রুতিতে তারা ধর্মভিত্তিক শিক্ষার প্রতি ঝুঁকছে। বিশেষত প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে নূরানী ও অন্যান্য কারিকুলামগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো, এই ধর্মভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামগুলো অগোছালো এবং সুচিন্তিত নয়। আরও চিন্তার বিষয় হলো, দেশব্যাপী ধর্মভিত্তিক শিশু শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকের নির্দিষ্ট কোনো প্যাটার্ন নেই। একেক মকতব বা স্কুল একেক প্রকারের পাঠ্যপুস্তক পাঠদান করে থাকে। এমন অগোছালো ও অনির্দিষ্ট কারিকুলাম ভবিষ্যতের জন্য চিন্তার কারণ। কারণ, সামনের দিনগুলোতে সরকার উপানুষ্ঠানিক এসব শিক্ষা কার্যক্রমগুলোর ওপর খড়গহস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
এজন্য বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর উচিত, সারা দেশের ধর্মভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমগুলোকে এক ছাতার তলে নিয়ে আসা এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা। এতে সারা দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মভিত্তিক শিক্ষার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি হস্তক্ষেপ থেকেও এই মহৎ উদ্যোগগুলো রক্ষা পাবে।