সমাজে ‘ঈশ্বর-অবিশ্বাসী’ নাস্তিক থাকবে, আপনার চিন্তার ভিন্ন চিন্তার মানুষও থাকবে। থাকবেই। ভিন্ন চিন্তার মানুষ না থাকলে আপনি আপনার নিজস্ব চিন্তার পরিচর্যা করবেন কীভাবে? আপনার মতবাদ বা চিন্তাকে ডেভেলপ করবেন কীভাবে?
ভিন্ন মতবাদ, ভিন্ন বিশ্বাস, ভিন্ন চিন্তা নবীজির (সা.) মদিনা সমাজ থেকে নিয়ে পরবর্তী প্রতিটি মুসলিম সালতানাতেই ছিল। প্রতি যুগে মুসলিম সালতানাতের প্রতিটি শহরে ভিন্ন চিন্তার মানুষের উদ্ভব হয়েছে। আর এই ভিন্ন চিন্তার মানুষদের উদ্ভব হওয়ার ফলে ইসলামি চিন্তা প্রতিটি যুগে ডেভেলপ হয়েছে। চার ইমাম থেকে শুরু করে ইমাম গাজালি, ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইমাম রাজি, মুজাদ্দেদে আলফে সানি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ এবং এমন আরও শত সহস্র মুসলিম স্কলার ভিন্ন চিন্তাকে কাউন্টার করতে প্রতিনিয়ত ইসলামি চিন্তাকে ডেভেলপ করে গেছেন।
২০১৩ সালে ভিন্ন চিন্তার প্রসার হয়েছিল বিধায় ‘শাপলা-বিপ্লব’ হয়েছিল। শাপলা-বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে এই দেশে ইসলামি চিন্তার নতুন দুয়ার খুলেছিল এবং ইসলামি চিন্তার আধুনিকায়ন হয়েছিল। জুলাই-বিপ্লব পরবর্তী আজকের বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিম আত্মপরিচয়ের এই যে এত শক্তিশালী অবস্থান, এটা শাপলা-বিপ্লবের ফলাফল। বিগত এক যুগে শাপলা-বিপ্লব নিরবে নিভৃতে তার শেকড় ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের মননে। সুতরাং ভিন্ন চিন্তা দেখলেই সেটার দিকে তেড়ে যাবেন না। চিন্তা দিয়ে চিন্তাকে কাউন্টার করতে শিখুন। আধুনিক এই সময়ে আপনার চিন্তা ডেভেলপ করা সবচেয়ে বড় সম্পদ, শক্তিশালী হাতিয়ার।
শিল্পকলা একাডেমির নতুন ডিজি সৈয়দ জামিল আহমেদের একটি খণ্ডিত ভিডিও বক্তব্য নিয়ে বেশ শোরগোল হচ্ছে। তার ধর্মবিশ্বাস বা চিন্তার নৈতিকতার ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে তার ওই খণ্ডিত প্রায় দেড় মিনিটের বক্তব্যটি শুনলাম। সেখানে তিনি যে ‘বিরাট’ ব্লাসফেমি ধরনের কিছু বলেছেন, আমার মনে হয়নি। তিনি বলেছেন, শিল্পকলা একাডেমি সকল চিন্তার মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এমনকি জামায়াতের লোকজনও এখানে এসে যুক্তি দিয়ে বলবে, কেন ২০২৪ সালে এসেও মেয়েদের বোরকা পরতে হবে…।
এবার পাল্টা যুক্তি, পাল্টা চিন্তার বল আপনার কোর্টে, জামায়াতের কোর্টে।