বাংলাদেশে ইসলাম এবং ইসলামী মুভমেন্টকে কাউন্টার দেয়ার সবচে মোক্ষম অস্ত্র হলো ‘নারী’। ইতিহাস দেখেন। বিগত ২৫-৩০ বছরে যতগুলো দেশ কাঁপানো ইসলামী মুভমেন্ট হয়েছে এর সিংহভাগ ছিল নারীকেন্দ্রিক। ফতোয়াবিরোধী মুভমেন্ট, নারীনীতি, থেমিস মূর্তি, এবং সাম্প্রতিক নারী সংস্কার কমিশনসহ বিগত দিনে ছোট বড় আরও বেশকিছু মুভমেন্ট হয়েছে বিভিন্ন প্রকার নারী ইস্যু কেন্দ্র করে।
নারী—বামপন্থীদের এটা একটা নিখুঁত এবং অব্যর্থ অস্ত্র। বাংলাদেশে যখনই ইসলামী মুভমেন্টকে প্রতিহত করার প্রয়োজন হয়েছে, বাম, সুশীল ও এনজিওরা মাঠে নামিয়েছে নারীকেন্দ্রিক স্পর্শকাতর কোনো ইস্যু। এর দ্বারা এক ঢিলে কয়েকটি পাখি শিকার করা যায়।
★ ইসলামকে নারীর শত্রু হিসেবে দাঁড় করানো যায়।
★ ইসলামপন্থীদেরকে উস্কে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা যায়।
★ বাম ও সুশীল শ্রেণিই যে নারীর ‘অকৃত্রিম’ রক্ষক, সেটা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
★ এলজিবিটি, যৌন স্বাধীনতা ইত্যাদি মুখরোচক বিষয় আবার প্রকাশ্যে আনা যায়।
★ বিদেশী সরকার, দাতা সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠনের সামনে ইসলাম ও ইসলামী মুভমেন্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।
★ সরকারকে ইসলামপন্থীদের ওপর খড়গহস্ত হওয়ার পথ তৈরি করা যায়।
★ এবং সাম্প্রতিক যে নারী মৈত্রী সমাবেশ হচ্ছে, এর দ্বারা মূলত আওয়ামী লীগের উচ্ছিষ্টভোগী সুশীল ও এনজিও-র রিএষ্টাব্লিসমেন্ট করার পরিবেশ তৈরি করা যায়।
এর একটা বাস্তব উদাহরণ দেখুন!
নারী সংস্কার কমিশন করার দরকারটা কী ছিল? বিগত আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসনের সময় রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক যেসব প্রতিষ্ঠান কলুষিত করেছিল, ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট সেসব সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন করে। পুলিশ সংস্কার কমিশন, সংবিধান, নির্বাচন, গুম, দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন ইত্যাদি। এর মধ্যে তারা নারী সংস্কার কমিশনও ঢুকিয়ে দেয়।
কেন? আওয়ামী লীগের শাসনামলে নারী কি কলুষিত হয়েছিল? নারীর প্রতি অধিক নিপীড়ন হয়েছে? নারী কি রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক কোনো প্রতিষ্ঠান যেটি আওয়ামী লীগের শাসনামলে অপব্যবহার হয়েছে?
এর কোনোটাই না। বরং শেখ হাসিনা সরকার নারীদের জন্য চাকরি, সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক অধিকারসহ বহুভাবে তাদের অধিক হারে প্রণোদনা দিয়েছিল। তাহলে কেন নারী সংস্কার কমিশনের প্রয়োজন পড়ল?
আজকে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ নামের এই সমাবেশের প্ল্যাকার্ডগুলো দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন সরকার কেন নারী সংস্কার কমিশন করেছিল।
‘নারী’ এই সরকারেরও বড় ট্রাম্প কার্ড। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই বুঝেছিল, জুলাই বিপ্লবে যে ইসলামী ও ডানপন্থার উত্থান ঘটেছে, সামনে এদের সক্ষমতা এবং প্রভাব খণ্ডন করার প্রয়োজন পড়বেই। আর এই ইসলামী শক্তির প্রভাব খণ্ডন করার অন্যতম অস্ত্র হলো নারী। অতীতে যেটা বহুবার ফলপ্রসূ হয়েছে। সরকার তাই তাদের সংস্কার কমিশনে অহেতুক নারী সংস্কার কমিশন ঢুকিয়ে রাখে এবং সেই সংস্কার কমিশনে বিতর্ক উস্কে দেওয়ার মতো দু-চারটে নীতিও স্বপ্রণোদিতভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এবং বুঝতেই পারছেন, ৩ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের আগে মোক্ষম সময়ে কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল: গর্জে ওঠে হেফাজতে ইসলামের বজ্রকণ্ঠ এবং মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ায় নারীর প্রতি ইসলামের অবস্থান বিষয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক। বাম, সুশীল (আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী), এনজিও এবং সরকারের একটি অংশ ঠিক এই জিনিসটাই কামনা করছিল।
সামনে যেটা হবে:
➤ নারী ইস্যুটাকে আরও বড় ও সহিংস করা হবে।
➤ হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করে নারী ও ইসলামকে পরস্পরের শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হবে।
➤ সরকারের সঙ্গে ইসলামপন্থীদের দূরত্ব তৈরি হবে।
➤ নতুন-পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও ইসলামপন্থীদের দূরত্ব তৈরি করা হবে।
➤ রাজনৈতিক দলগুলোর ডানপন্থা বিসর্জন দিতে চাপ প্রয়োগ করা হবে।
➤ এনসিপি’সহ নতুন রাজনৈতিক দলগুলোতে ইসলামী ও ডানপন্থী নেতাদের কোনঠাসা করা হবে এবং দলে বামপন্থীদের প্রভাব সুসংহত করা হবে।
➤ সর্বোপরি, কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রকার বিধিনিষেধ প্রণয়নের চেষ্টা করা হবে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, এর থেকে উত্তরণের উপায় কী?
খুব সহজ! উপরে যেসব সমস্যা ও সম্ভাব্য পরিণতির কথা বলা হলো, এগুলো এভয়েড করে চললেই আশা করি সকল ‘মুশকিলে আসান’ হবে ইনশাআল্লাহ!
আরও যারা বিস্তারিত জানতে চান, কয়েক দিন আগে আমি এ বিষয়ে একটি ভিডিও দিয়েছিলাম। কমেন্টে লিংক দিয়ে দিচ্ছি।