ধরেন, আমি হেফাজতে ইসলামের ‘ঢাকাকেন্দ্রিক’ একজন পপুলার নেতা। আমার নিজেরও একটা রাজনৈতিক পার্টি আছে, ‘ইসলামী’ পার্টি। এখন আমি চাইতেছি সামনের ইলেকশনে কোনো একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে কিছু আসন বগলদাবা করা। এতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানেরই কামিয়াবি।
তাহলে কোন দলের সঙ্গে যাওয়া যায়? বিএনপিই সবচেয়ে ভালো অপশন। তারা পরীক্ষিত দোস্ত-ইয়ার। অতীতে তাদের সঙ্গে নানা গাঁটছড়া বান্ধা হইছে। বেশি কিছু তারা না দিলেও অন্তত লাত্থিগুতা মারে না। চরিত্র ভালো। ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নিয়ে বৈঠকও করা হইছে। বেশ আবেগঘন পরিবেশ ছিল।
কিন্তু সমস্যা হইলো, আমার ইসলামী রাজনৈতিক পার্টি তো কেবল নামসর্বস্ব। সমাবেশের ডাক দিলে হাজারখানেকের বেশি কর্মী আসে না। যারা আসে তাদেরকেও বাসভাড়া দিয়ে আনতে হয়। তাহলে কীভাবে আমি বিএনপির সামনে আমার শক্তিমত্তা ও গণজোয়ার জাহির করব?
খুব সহজ। আমার তো ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে একটা রেডিমেড অরাজনৈতিক সংগঠন আছে। এই সংগঠনের নামে একটা আওয়াজ দিতে বাকি, লাখ লাখ মানুষের গণজোয়ার তৈরি হইতে দেরি হয় না। অতীতে বহুবার এইটাকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করা গেছে। আর এখন তো সকল মহল আমার অনুকূলেই।
আমার এখন দরকার কেবল একটা ইস্যু। একটা জবরদস্ত ইস্যু, যে ইস্যুতে হেফাজতে ইসলামের পেশীশক্তি বিএনপিকে দেখাইতে হবে। ধরেন, নারী সংস্কার কমিশনের উল্টাপাল্টা নীতিমালার অনেকগুলা মুসলিম পারিবারিক আইনের পরিপন্থী। ব্যাস, ইস্যু তো রেডি। এইবার হেফাজতে ইসলামের একটা মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া যায়।
দেখেন, এই কমিশনের সংস্কার নীতিমালার প্রতিবাদে আমি ইচ্ছা করলেই প্রত্যেকটা ধারা মুসলিম পারিবারিক আইনের আওতায় এনে প্রথমে একটা সংশোধনী দিতে পারতাম। ইচ্ছা করলে সেটা একদম প্রধান উপদেষ্টার হাতে পৌঁছায়া দিতে পারতাম। এমনকি আমি ইচ্ছা করলে নারী কমিশনের প্রস্তাবনা বহুলাংশে সংশোধনও করতে পারতাম। যদি ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট না মানতো তাইলে হার্ডলাইনে যাইতে পারতাম। জোরে বলেন ঠিক কি না?
কিন্তু তাতে কি নির্বাচনে আমার কোনো ফায়দা হতো? বিএনপি কি আমার শক্তিমত্তা বুঝতে পারতো? আমার জন্য ৫টা আসনের বন্দোবস্ত দিত? জামাত কি আমারে গোনায় ধরত? এনসিপি কি আমারে দাম দিত? দিত না। রাজনীতি হইল শক্তিমত্তা দেখানোর খেলা। সুতরাং আমাকে এখন ‘হেফাজত’ ট্রাম্পকার্ড খেলতে হবে। এই ট্রাম্পকার্ড খেললে সামনের নির্বাচনে বিএনপি বাপ বাপ বলে আসন ছাড় দেবে।
যাই হইক, এখন কথা বলার বেশি সময় নাই। সামনেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়া ফেলছি। সেই সমাবেশ বাস্তবায়নের নানা কারিকুলাম করতে হইতেছে। আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। বজ্রকণ্ঠে স্লোগান তুলে প্রকম্পিত করবেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
আপনারা তো আগেও আসছেন হেফাজতের মহাসমাবেশে, ২০১৩ সালে। মনে নাই? আপনারা তো দ্বীনের মোজাহিদ। প্রয়োজনে শহীদ হইবেন! আমরা তো আছিই!! আছি না?