ধরুন রূপকথার এক শহর। সেই শহরে থাকে এক কৌতূহলী কিশোরী। তার খুব ইচ্ছা হয় রূপকথার সেই শহরটা ঘুরে দেখার। কিন্তু কীভাবে দেখবে? তার কখনো বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগই হয় না। সে দেখেনি শহরের কোলাহলভরা বাজার, আকাশচুম্বী প্রাসাদ, সুন্দর রাস্তা আর বাগানগুলো। কিছুই দেখেনি সে। শুধু শুনে এসেছে, এই শহরে অদ্ভুত সুন্দর একটি ‘আয়নামহল’ আছে। আয়নামহলের একটি ঘর আছে, যে আয়নাঘরটি সাজানো হয়েছে এক হাজার আয়না দিয়ে। তার খুব ইচ্ছে একদিন সে সেই আয়নাঘর দেখতে যাবে।
একদিন সুযোগ এলো। কিশোরী মেয়েটি তার বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আশ্চর্য সুন্দর আয়নাঘর দেখতে গেল। আয়নাঘরটিতে একাই যেতে হয়, একজনের বেশি যাওয়ার নিয়ম নেই। কোনো সমস্যা নেই। কিশোরী মেয়েটি প্রথমে আয়নাঘরে ঢুকল। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে আশ্চর্য সব রঙ্গিন কারুকাজ দেখে মেয়েটির মুখ আনন্দে ভরে উঠল। সে আস্তে আস্তে এগুতে এগুতে সেই একহাজার আয়নারঘরে প্রবেশ করল। ঘরে ঢুকেই তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। মেয়েটি দেখলে, সেখানে ঠিক তারই মতো দেখতে আরও এক হাজার মেয়ে হাস্যোজ্জল মুখে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সে যা করছে বাকিরাও ঠিক তাই তাই করছে। এমন আশ্চর্য দৃশ্য দেখে সে দারুণ আনন্দ পেল। নানা ভঙ্গিমায় নিজেকে দেখতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর মেয়েটি সবকিছু দেখে বাইরে চলে এল। বাইরে এসে তার বান্ধবীকে বলল, ‘এমন সুন্দর আর আশ্চর্য জায়গা আমি জীবনে কখনো দেখেনি। সুযোগ পেলে আমি আবার আসব এ আয়নামহলে। ভেতরের সৌন্দর্য তোমাকে এখনই বলছি না, তুমি নিজে গিয়েই দেখে এসো।
সব কথা শুনে এবার মেয়েটির বান্ধবী কিছুটা ভয় ভয় মন নিয়ে আয়নামহলে প্রবেশ করল। ঘুরতে ঘুরতে আতংকিত মনে সে-ও সেই ‘এক হাজার আয়নাঘরে’ প্রবেশ করল। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে মেয়েটি ভয় পেয়ে উঠল। ভয়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল, আতঙ্কিত হয়ে উঠল চোখ। সে খেয়াল করল, ঠিক তারই মতো দেখতে আরও এক হাজার মেয়ে আতঙ্কিত আর ভয়ার্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মেয়েটি ভয় পেয়ে যখন দুই হাত তুলে বলছে, ‘তোমারা কারা,’ সাথে সাথে আয়নায় প্রতিবিম্বিত এক হাজার মেয়েও দুই হাত তুলে তাকে বলছে, ‘তোমরা কারা?’
মেয়েটি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে আয়নামহল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এসে কিশোরী মেয়েটিকে বলল, ‘শিগগির বাড়ি চলো, এটা খুব বাজে জায়গা। ভয়ে আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আমি জীবনে আর কোনোদিন এমন অদ্ভুত জিনিস দেখেতে আসব না।’
গল্পের শিক্ষা:________________
আমাদের জীবনটাও একটা আয়নাস্বরূপ। আপনি যেভাবে জীবনকে দেখবেন, জীবন ঠিক সেভাবেই আপনার কাছে ধরা দিবে। যারা সাহসিকতা, ভালোবাসা, উৎসাহ, জয় করার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, জীবন তাদের কাছে অনেক সহজ ও আনন্দময় হয়ে ধরা দেয়। কিন্তু যারা হতাশা, ভয়, সন্দেহগ্রস্ততা, মানসিক অবসাদ নিয়ে সামনে এগুতে চায়, তাদের কাছে জীবন হয়ে উঠে দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, ক্লান্তিকর, বিষণ্ণতায় ভরা। বাস্তবতাকে আপনি যেভাবে দেখবেন, আপনার সামনে তা সেভাবেই ধরা দিবে।
আপনার প্রতিদিনের জীবনকে উপভোগ করুন। হোক সেটা যত কষ্টক্লিষ্ট কিংবা দারিদ্রপিষ্ট, জীবন থেকে আনন্দ কখনো হারাতে দেবেন না।