সন্ধ্যাবেলা জমিদারী তদারক করতে বিলে গেছিলাম। এবার ইরি সিজনে ধানের আবাদ কম করছি, ভুট্টা বুনছি বেশি। কারণ, ধানের চাইতে ভুট্টা আবাদে খাটনি খানিকটা কম এবং গোলায় তোলার ঝক্কিঝামেলাও ধানের চাইতে কম। আমি জমিদারীতে ইদানিং সময় যেহেতু কম দিতে পারতেছি, তাই আছানির জন্য ভুট্টার আবাদ অধিক করা হইছে। নিজেদের ঘরে খাওয়ার জন্য যে পরিমাণ ধানের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা রাখি, মোটামুটি অই পরিমাণ আবাদ করা হইছে।
ভুট্টার আবাদ ভালো হইছে। ধানের আবাদও ভালো। মাশাআল্লাহ!
তবে এইখানেও তো কথা থাইকা যায়। এই যে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা কইরা আমরা ধান চাষ করলাম, সারা বছর খাব বইলা; কিন্তু এমনও তো হইতে পারে যে ধান পাকার আগেই আমি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলাম। আমার জন্য মনে মনে বরাদ্দ করা ধানগুলা পাইকা সোনালি কালার হইল, সেই ধান রোদে শুকায়া বস্তায় ভইরা নানা প্রক্রিয়া পার কইরা চালে রূপান্তর হইল। চাল থেকে ভাত। ভাপউঠা গরম ভাত। কিন্তু সেই ভাতে আর আমার নাম লেখা নাই। এমন হইতে পারে না?
এই তো মাত্র কয়েকদিন আগে আমার পরিচিত একজন আলেম-লেখক রাইহান খাইরুল্লাহ উমরার সফরে গিয়া অকস্মাৎ মক্কায় ইন্তেকাল করলেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়া মাত্র এক দুই দিনের মধ্যে আল্লাহর দরবারে চইলা গেলেন। তারও তো কত স্বপ্ন ছিল, প্ল্যান আছিল জীবন নিয়া। যেমন আমাদের সবার থাকে। কিন্তু মরণ নিয়া আমাদের কোনো প্ল্যান করা নাই। এত অনিশ্চিত জীবন আমাগো…!
এই সবুজ ধান ও ভুট্টা ক্ষেতের দোলায়মান পাতার ফাঁকে হয়তো রয়া যাবে আমার স্মৃতি। সন্ধ্যারাগের বাতাসে ভাইসা থাকবে আমার শরিলের ঘ্রাণ। কিছু পুস্তকের পৃষ্ঠায় আমার নামের দস্তখত। স্বজন-প্রিয়জনের হৃদয়ে থাকব হাহাকার হয়া। এইসবই ইহলৌকিক জীবনের আখেরি প্রাপ্তি। তারপর দিব অনন্ত উড়ান…