২৫ নভেম্বর ২০২৪, রাজধানীর ডেমরার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর সেখানকার আসবাবপত্র নিয়ে যায় কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওর্দী কলেজের ‘কথিত’ শিক্ষার্থীরা।
আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এই যে অবক্ষয়, এই অবক্ষয়কাল কবে শেষ হবে? রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই, কিন্তু দুর্বৃত্তায়নের বিষবৃক্ষের বীজ কতদিন বিষবাষ্প ছড়াবে আমাদের বাতাসে?
শিক্ষার লক্ষ্য কী? মানুষের মাঝে মনুষ্যত্ববোধ ও শিল্পিত মননকে জাগ্রত করা এবং সকল সুকুমারবৃত্তিকে পরিপালন ও পরিশীলন করা। কিন্তু এ আমরা কী দেখছি? কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে সেখানকার কম্পিউটার, বিগস্ক্রিন, আসবাবপত্র, জরুরি নথিপত্র নিয়ে যাওয়া, এগুলো উচ্চশিক্ষার প্রতিফলন? এখানে মনুষ্যত্ববোধই বা কোথায় আর সুকুমারবৃত্তিই বা কোথায়!
বিগত কয়েক দশকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিকতাহীন একঘেয়ে ঘানিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে নৈতিকতা শেখানো হয় না। সচ্চরিত্রবান কীভাবে হতে হবে তা না শিখিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে’। শিক্ষার উদ্দেশ্য কি কাউকে গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ানো? শিক্ষার এ ধরনের ন্যারেটিভ কেন তৈরি হলো?
‘শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও’! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে এই ‘মহান’ বাক্য লেখা থাকে। কিন্তু যে বালক-বালিকা শিক্ষার জন্য স্কুলের ফটক দিয়ে ঢুকল, ২০ বছর পর সে কি সেবার লক্ষ্যে বেরিয়ে যাচ্ছে? না, সে তো গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ার লক্ষ্য ছাড়া চোখের সামনে আর কোনো লক্ষ্যই দেখতে পাচ্ছে না। বিসিএস না হোক, ৬ অংকের মাসকাবারি থাকে তার প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে লেখা ওই বাণী কি তবে কোনো কাজে আসে? যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে গাড়ি-ঘোড়া, ক্যারিয়ার, উঁচু বেতনের চাকরি, ছাত্ররাজনীতি, গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড, কীভাবে শরীফ থেকে শরীফা হওয়া যায় সেই শিক্ষা; সেখানে ওই মুখভরা বাণীটা টাঙানো মিথ্যা লাগে না?
এই ছবিটার দিকে ভালো করে একবার তাকান। এখানে আমাদের ভবিষ্যত লেখা আছে। লেখা আছে আমাদের অতীতও। অতীত তো পরিবর্তন করা সম্ভব না। কিন্তু ভবিষ্যত? আমাদের এই প্রজন্মের ভয়াবহ ভবিষ্যত আমরা পরিবর্তন করতে পারি। প্রয়োজন একটু কঠোর হওয়া। কঠোরতা কোনো শাস্তি নয়, কঠোরতা ভবিষ্যতকে নিরাপদ করার জন্য।
নইলে নসিম হিজাজির সেই বিখ্যাত কথাটা মনে রাখবেন, ‘কুদরত কোনো কওমের সম্মিলিত অপরাধ ক্ষমা করে না।’