তিনটা বই ইন্টারন্যাশনাল জি+হা=দ মুভমেন্ট এবং অধুনা খেলাফতকামী নানা প্রকার দল ও আন্দোলনকে বুঝতে আমাকে ব্যাপক সাহায্য করেছে।
* মাইকেল ওয়েইজ ও হাসসান হাসসান-এর লেখা ‘I-S+I-S : ইনসাইড দ্য আর্মি অব টেরর’
* সামার ইয়াজবেক-এর ‘দ্য ক্রসিং’
* সাইয়েদ সালিম শেহজাদ-এর লেখা ‘ইনসাইড আল কায়েদা অ্যান্ড দ্য তালিবান’
এই বই তিনটা পড়ার পর আমি বৈশ্বিক বা দেশীয় যেকোনো জি/হা-দ মুভমেন্টকে সন্দেহের চোখে দেখি। এবং যেসব ব্যক্তি এসব মুভমেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্যে-প্রচ্ছন্নভাবে নিজেদের যুক্ততা প্রদর্শন করেন, আমি তাদের ব্যাপারেও সর্বদা সন্দেহ পোষণ করি।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন হতে পারে, এই বই তিনটা পড়ে কেন আমার এমন কনক্লুশন তৈরি হলো?
এই তিনটা বইয়ে আমি দেখেছি, আমদের ধর্মীয় আবেগভরা চোখে যেটা জি/হা*দ মুভমেন্ট মনে হচ্ছে, কিংবা যেটাকে আমরা খেলাফতীয় লড়াই বলে ঠাহর করছি, বাস্তবে এসব মুভমেন্টের নানা বেসামরিক/সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে মূলত ইন্টারন্যাশনাল ডিপার পলিটিকসের অনুঘটক হিসেবে। সেই ডিপার পলিটিকসে স্থানীয় শাসকগোষ্ঠী বা বিরোধীপক্ষ থাকে, আমেরিকা থাকে, রাশিয়া থাকে, ভারত থাকে, চিন থাকে, ইরান থাকে, কখনো কখনো স্থানীয়/আন্তর্জাতিক কোনো মাফিয়াগোষ্ঠীও শামিল থাকে। তাই অনেক সময়ই নানাজনের নানা ফরমায়েশী ডেলিভারি সম্পন্ন করতে এসব মুভমেন্ট/আন্দোলনের নেতারা তাদের কর্মীদের মাঠে নামান।
বিষয়টি আরও ক্লিয়ার করে বুঝতে ছবি দুটো আরেকবার দেখুন।
দুই
নিচের ছবি দুটোর ব্যাখ্যা এতক্ষণে নিশ্চয় আপনারা বিভিন্নজনের পোস্টে পেয়েছেন। ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে একজন মাদরাসাশিক্ষার্থীর দাড়ি টান দিয়ে ধরে তার ওপর আক্রমণ করছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা। সেই একই ছাত্রলীগ নেতা গতকাল বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে কথিত খেলাফতকামী নিষিদ্ধ সংগঠন হিয-বুত/ তাহ+রিরের মিছিলে খেলাফত কায়েমের স্লোগান দিচ্ছে।
আপনারা যারা রাজনীতি বা সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত, তারা গতকালের আরও কিছু ছবির ফ্যাক্ট চেক করুন। আমি শপথ করে বলতে পারি, এই মিছিলে কমপক্ষে ১০০ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারবেন। এবং এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়, এটাই ইন্টারন্যাশনাল ডিপার পলিটিকস।
আপনার কি মনে হয়, এই ছাত্রলীগ নেতা স্বৈরাচার পতনের ৬ মাসের মাথায় হঠাৎ হেদায়েতপ্রাপ্ত খেলাফতকামী হয়ে গেছে? না, মোটেও তা না। সে মূলত হেদায়েত হয়েছে তার উপরের স্তরের লিডারের মাধ্যমে, যে তাকে দুই দিন আগে ব্রিফ করেছে হিযবু+ত তাহ*রিরের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে। আবার সেই লিডারকে ব্রিফ করেছে দেশত্যাগী আরও বড় লিডার। বড় লিডারকে নির্দেশ দিয়েছে হয়তো স্বয়ং ফেরারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আগামীকাল হিযব%বুত তাহ#রিরকে মাঠে নামাচ্ছি আমরা। যাত্রাবাড়ী থেকে কমছে কম ১ হাজার ছাত্রলীগ সাপ্লাই করবা!
এ সময় ফেরারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে হয়তো বসে ছিলেন ‘বিদেশী‘ কোনো গোয়েন্দা এজেন্সির রিজিওনাল হেড, এবং তারা দুজনে zoom ভিডিও কলে কথা বলছিলেন বাংলাদেশস্থ নিষিদ্ধঘোষিত হিযবু’র সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে।
সাংগঠনিক সম্পাদক হাস্যমুখে বলে উঠলেন: ওকে, ডান!
এই ঘটনাকে কেবলই কাকতালীয় ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি আগেই বলেছি, আপনার ধর্মীয় বোকা আবেগকে একপাশে সরিয়ে রেখে বৈশ্বিক ও স্থানীয় মুভমেন্টগুলোকে বুঝার চেষ্টা করেন। ঘটনার উপর থেকে আবেগের লেয়ারটাকে যদি সরাতে পারেন, দেখবেন, আপনার সামনে সবকিছু কত স্বচ্ছভাবে ধরা দিচ্ছে।