মাসিক নবধ্বনির ঈদসংখ্যা প্রকাশ হওয়ার কথা কুরবানি ঈদের আগে। কিন্তু কিছু অযাচিত কারণে কাজ শেষ করতে পারিনি। ফলে ঈদসংখ্যা প্রকাশ হলো গতকাল। তাতে অবশ্য দ্বিধার কিছু নেই। কারণ, ৩৬৮ পৃষ্ঠার এই ঈদসংখ্যাটি আমাদের হৃদয়কে আবেগের স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছে।
অনেকেই হয়তো জানেন, নবধ্বনির সিংহভাগ লেখক ও পাঠক কওমি মাদরাসার সাহিত্যানুরাগী তরুণ-তরুণীরা। নবধ্বনিতে কালেভদ্রে দু-চারজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখা ছাপা হয়। তাছাড়া সকল লেখাই তরুণদের হাতে তৈরি, যারা কেবল হৃদয়ভাঙা বাতচিত লিখতে শিখছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের স্লোগান: পাঠকই যার লেখক, লেখকই যার পাঠক।
এই যে ৩৬৮ পৃষ্ঠার ঈদসংখ্যা—যেখানে ১০১ জন লেখক এবং ৪৯ জন কবির লেখা প্রকাশ হলো— এর প্রায় সকল লেখাই মাদরাসার তরুণ লিখিয়েদের। এবং আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এখানকার কোনো লেখাই ফরমায়েশি লেখা নয়। সকল লেখা তরুণদের স্বপ্রণোদিত পাঠানো। আমরা শুধু আমাদের পত্রিকার ফেসবুক পেজে একটা ঘোষণা দেই: এ মাসের এত তারিখ পর্যন্ত লেখা গ্রহণ করা হবে। ব্যাস! প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচশ ইমেইল চলে আসে আমাদের ঠিকানায়। যেমন ঈদসংখ্যার জন্য প্রায় এক হাজার লেখা জমা পড়েছিল আমাদের মেইলে।
এখন প্রশ্ন হতেই পারে, যেহেতু তরুণদের পত্রিকা, তার ওপর আবার মাদরাসার তলবে এলেমদের হাতে লেখা, নিশ্চয় লেখার মান অতীব নিম্নমানের। যারা এমন সন্দেহ পোষণের দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগেন, তারা দয়া করে ঈদসংখ্যাটা সংগ্রহ করুন। তারপর আপনার মতামত জানান। যদি সেটা না করতে পারেন, প্রতি মাসে পত্রিকার পিডিএফ সংস্করণ আমরা আমাদের পেজে আপলোড করে দেই। পূর্ববর্তী যে কোনো মাসের পত্রিকা পড়ে আপনার মতামত জানাতে পারেন।
এটা হলো আমাদের কনফিডেন্স। ১৮ বছর ধরে আমরা নবধ্বনি পত্রিকাটি প্রকাশ করে আসছি। তাই আমরা আমাদের পাঠকের নাড়িনক্ষত্র জানি। আমরা জানি, ১৮ বছরের দীর্ঘ জার্নির পর আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আর আমাদের পাঠক-লেখক কতটা উন্নত হয়েছে। কওমি মাদরাসার তরুণ লেখকদের সেই উন্নতিই আমাদের কনফিডেন্সের মূল অনুপ্রেরণা।
সকলের পাঠ-আনন্দ কামনা করছি!