বিপ্লবী সালাম গ্রহণ করো প্রিয় Hasan Enam!

তোমার এই দায়িত্বভার গ্রহণ নিয়ে আমি দুটো ইতিবাচক কথা বলব।
এক.
জুলাই বিপ্লবের পর তরুণ নেতাদের হাতে বিপ্লবকে রাজনৈতিকীকরণে তোমার অসমর্থন এবং অনীহা জায়েজ ছিল, শতভাগ। আমি গর্বিত হয়েছিলাম যখন দেখেছি, বিপ্লব এবং শহীদ-আহত বিপ্লবীদের স্বার্থ রক্ষার দায়ভারের কারণে তুমি বিপ্লবীদের রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণ করো নাই। তোমার সামনে বড় পদ ছিল, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন ছিল, নেতা হওয়ার হাতছানি ছিল। কিন্তু বিপ্লবের দায়ভার হোক বা অভিমানে হোক, তুমি বিপ্লব বিক্রি করে নেতা হতে চাও নাই। তুমি বিপ্লবকে আপন সন্তানের মতো কোলে কাঁখে করে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছো। তোমার এই সিদ্ধান্তকে আমি হৃদয়জ কুর্ণিশ করি।
এই স্পিরিটই বিপ্লব। এই স্পিরিট তুমি যেখানে সেখানে পাবে না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা কিংবা বিদেশী ডেলিগেট ও ডিপ্লোম্যাটদের সঙ্গে লাঞ্চ করতে করতে এক সময় এই স্পিরিট শেষ হয়ে যায়। আমি চাই, সেই দুর্দিন যেন তোমার কপালে কখনো না আসে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্য আজীবন মানুষের মাঝেই থাকো। বিপ্লবকে আজীবন বুকে ধারণ করে রাখো। বিপ্লব তোমার সঙ্গেই চিরজীবী হোক! তোমাকে লাল সালাম!!
দুই
বিপ্লবের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর একটা বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত ছিল বৈছাআ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিলুপ্ত না করা। বিশেষ করে বিপ্লবীদের রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠনের পর বৈছাআ, ইনকিলাব মঞ্চ ইত্যাদি বিপ্লবী সংগঠনকে বিলুপ্ত না করা অনেক দূরদর্শী একটি সিদ্ধান্ত ছিল।
রাজনৈতিক দলের অনেক সীমাবদ্ধতা, অনেক কুলরক্ষা এবং অনেক ডিপ্লোম্যাসি থাকে। আপনি রাজনীতির ভিতরে থাকলে দেশ ও দেশের বাইরের অনেক অনেক হককথা বলতে পারবেন না, হক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। আপনার দল ও পদ-পদবী আপনার মুখ অক্টোপাসের মতো চেপে ধরবে।
কিন্তু আপনার ছত্রছায়ায় যদি বৈছাআ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মতো শক্তিশালী অরাজনৈতিক সংগঠন থাকে তাহলে এই সংগঠনগুলোই হয়ে উঠবে আপনার প্যারালাল কণ্ঠস্বর।
বৈছাআর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান থাকবে, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বৈছাআকে শক্তিশালী করতে আপনাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। এই বৈছাআ’ই হবে এনসিপির পাইপলাইন, এনসিপির রাজনৈতিক আঁতুড়ঘর। এখান থেকেই তৈরি হবে এনসিপির পরবর্তী নেতৃত্ব। আপনারা সেই নেতৃত্বের কারিগর।
আপনাদের জন্য শুভাশীষ!

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published.