জোহরান মামদানি!আমেরিকান সিটিজেন এই লোকটাকে আপনারা বেশির ভাগ পাঠকই চিনবেন না হয়তো। তার নামও হয়তো শোনেননি কখনো। অন্তত গত দুই-এক সপ্তাহ আগে তার নাম শোনার বা তাকে জানার প্রশ্নই আসে না।

কিন্তু গত দুই-এক সপ্তাহে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক অভূতপূর্ব কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন এবং তার বিরুদ্ধে লড়ছেন ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত মেয়র থাকা অ্যান্ড্রু কোমো। তার ওপর কোমো ডেমোক্র্যাট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছের লোক। অন্যদিকে মামদানি ট্রাম্পের ঘোরবিরোধী লোক।

নিউ ইয়র্ক সিটির সিটিজেনদের বিরাট একটা অংশ অভিবাসী। বিশেষত ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী, বাংলাদেশী, আফ্রো-আমেরিকান এবং দক্ষিণ আমেরিকান অভিবাসী। ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির কারণে আফ্রো-আমেরিকান এবং দক্ষিণ আমেরিকান অভিবাসীরা স্বভাবতই মামদানির পক্ষে রয়েছে। আর সাবকন্টিনেন্টের ভোটাররা একবাক্যে মামদানির পক্ষালম্বন করবেন, এমনটাই স্বাভাবিক। সাবকন্টিনেন্টের ভোটারদের জন্য জোহরান মামদানি হিন্দি-উর্দু এবং বাংলাতেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। যেহেতু তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, ফলে হিন্দি-উর্দুতে তিনি বেশ ফ্লুয়েন্ট আর বাংলাতেও কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।

ফিলিস্তিনের পক্ষে আমেরিকান সিনেটরদের মধ্যে সবচে সরব যিনি, সেই বার্নি স্যান্ডার্স সরাসরি জোহরান মামদানির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নিউ ইয়র্কে ইহুদিদের একটা ভালো ভোটব্যাংক আছে। মামদানি সেটা জানেন। এবং জেনে বুঝেই তিনি এই ইহুদি ভোটব্যাংকে অবজ্ঞা করেছেন। কারণ, বিশ্বরাজনীতিতে ইহুদি ও ইসরাইল এখন সবচে ঘৃণ্য একটি পরিচয় হয়ে গেছে। মামদানি ২ কোটি নিউ ইয়র্কবাসীর সামনে ঠিক এই সময়ে এসে ইসরাইলের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ফলে আমেরিকাজুড়ে ফুঁসতে থাকা প্রো-প্যালেস্টাইন যে বিরাট নাগরিক সমাজ, তারা স্বভাবতই মামদানির প্রতি সহমর্মী হয়ে উঠেছে।

ওদিকে মামদানির জন্য আরও লাভ হয়েছে, তার কঠিন প্রতিপক্ষ কোমো নিজেও একজন ইহুদি সিম্প্যাথাইজার। অবশ্য বিভিন্ন পোল ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, মামদানি বেশ ভালো রকম টক্কর দিচ্ছেন কোমোকে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের নাগরিকদের সামনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন এখন একটি মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছে, একটি বর্ডার লাইন নির্ধারণ করেছে। তুমি কোন দলে? ইসরাইল নাকি ফিলিস্তিন? তুমি জালিমের পক্ষে নাকি মজলুমের পক্ষে? এমন একটা পরিষ্কার সীমারেখা নির্ধারণের যে ইতিবাচক পরিবর্তন, সেটা এখনই হয়তো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন বিরাট ইমপ্যাক্ট তৈরি করবে পশ্চিমা সমাজে। আর ইসরাইলীদের প্রতি বিশ্বব্যাপী ঘৃণার যে নগ্ন প্রকাশ, সেটা প্রত্যেক সমাজে নতুন করে উজ্জীবিত হবে।

আজ ২৪ জুন সর্বশেষ ভোটগ্রহণের তারিখ। দেখা যাক একজন মুসলিম পরিচয়ধারী জোহরান মামদানি পৃথিবীর সবচে বিখ্যাত শহরের মেয়র হিসেবে জিততে পারেন কিনা। যদি পারেন তবে সেটি ইতিহাসই হয়ে থাকবে।

দ্রষ্টব্য:

জোহরান মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানি গুজরাটী মুসলিম। জন্ম মুম্বাইয়ে হলেও শৈশব-কৈশর কেটেছে উগান্ডায়। যৌবনে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় আসেন। আর জোহরান মামদানির মা বিখ্যাত ভারতীয় চিত্রপরিচালক মিরা নায়ের।


Leave a Reply

Your email address will not be published.