ধানমণ্ডি ২৭-এ ছায়ানট একটি বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের সেই বিদ্যালয়ের নাম ‘নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়’।

এখন আমার মনে দুটি প্রশ্ন উদয় হয়েছে।
এক. ‘নালন্দা’ নামটি তারা কেন গ্রহণ করল? নালন্দা তো বঙ্গের কোনো ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি ভারতের বিহার রাজ্যের একটি স্থানের নাম। তাহলে কোন ভালোবাসায় তারা নালন্দা নামটি গ্রহণ করল?
দুই. ধরে নিলাম ছায়ানট সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি বিহার রাজ্যের প্রাচীন বৌদ্ধতাত্ত্বিক ধর্মীয় উপাসনালয় ‘নালন্দা মহাবিহার’-এর নামানুসারে তাদের বিদ্যালয়ের নামকরণ করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, নালন্দা মহাবিহার নিরেট কোনো জ্ঞানালয় বা মহাবিদ্যালয় ছিল না, সেটি ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ‘ধর্মীয়’ জ্ঞানালয়। আজকে যেমন মুসলিমদের কওমি মাদরাসা, তেমনই নালন্দা ছিল বৌদ্ধদের ধর্মীয় মাদরাসা। সেখানে বৌদ্ধ উপাসনা অর্চনা যেমন চলতো তেমনি ধর্মতাত্ত্বিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দেয়ানেয়া হতো।
সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নালন্দা নাম গ্রহণ করার দ্বারা তারা আসলে কী গ্রহণ করছে? তারা কি এর দ্বারা প্রাচীন জ্ঞানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে? যদি তাই হয়ে থাকে তবে ছায়ানট কি দশম শতাব্দীর মুসলিম জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান ‘বায়তুল হিকমাহ’ নামে কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে?
ছায়ানটের ভালোবাসা কিসের প্রতি: বৌদ্ধধর্ম নাকি প্রাচীন জ্ঞানালয়? আর বায়তুল হিকমাহ নামের প্রতি কুণ্ঠা কেন: ইসলাম ধর্ম নাকি মুসলমানদের জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনীহা?
পুনশ্চ: আমাদের বাম-সুশীলদের মধ্যে ইসলামোফোবিয়া যে রক্ত-মাংসে ছড়িয়ে আছে সেটা তারা প্রমাণ করতে কসুর করে না। নালন্দা নামের বিদ্যালয় করার দ্বারা তারা মূলত আঘাত করতে চেয়েছে বঙ্গবিজেতা মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজিকে। তিনি ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস করেছিলেন বলে ইতিহাসের বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসলিম সেনাপতি নালন্দায় বৌদ্ধধর্মের মহাবিহার ধ্বংস করেছিলেন তাই সেই মহাবিহারের নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ তো আমাদের বাম-সুশীলদের একটা ওয়াজিব দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই না?
তবে মজার ব্যাপার হলো, নালন্দা মহাবিহার বখতিয়ার খলজি একাই ধ্বংস করেননি। তার আগে আরও প্রায় তিনজন হিন্দু রাজা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বৌদ্ধধর্মের বিনাশকল্পে নালন্দা মহাবিহার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বখতিয়ার খলজি তো নালন্দা মহাবিহারকে বৌদ্ধদের দূর্গ ভেবে ভুলবশতঃ সেখানে আক্রমণ করেছিলেন। অথচ হিন্দু রাজন্যবর্গ এই মহাবিহারে আক্রমণ করেছিলেন স্রেফ বৌদ্ধধর্মকে সমূলে উৎখাত করতে। কাজেই আপনারা যারা ইসলাম-মুসলমান বলতেই এলার্জি ফিল করেন, তারা একটু রয়েসয়ে ইতিহাস উদ্ধার করবেন, প্লিজ!

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published.