কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে নিউজ হচ্ছে, চীন আমাদের দেশে বিরাট বিরাট কয়েকটি হাসপাতাল তৈরি করতে আগ্রহী। এ নিয়ে তারা ভূমি যাচাই ও অন্যান্য কার্যক্রমও শুরু করেছে শুনলাম। বেশ ভালো কথা! দেশে মস্ত মস্ত হাসপাতাল হবে, এ তো খুশির কথাই। আমাদের আর বিদেশে যেতে হবে না। তা ছাড়া আমাদের দেশেও হাসপাতালের সংখ্যা কম নয়। সরকারী-বেসরকারী, ছোট-বড়, মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে গলিতে গলিতে ক্লিনিকের অভাব নেই দেশে।
কিন্তু এই শুভ সংবাদের একটা বিপরীত দিকও আছে। একটা শংকার দিক। একটা দেশে যখন শত শত ৫০০/১০০ শয্যার হাসপাতাল থাকে এবং আরও বিরাট বিরাট হাসপাতাল তৈরির তোড়জোর চলে, এর মানে হলো, ওই দেশের মানুষ বেশি অসুস্থ হয়। বড় বড় হাসপাতালের প্রয়োজন তখনই পড়ে যখন একটা দেশের মানুষের রোগ সংক্রমণের হার অনেক বেশি।
বড় বড় হাসপাতাল যত বেশি, তার মানে নাগরিকদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা তত বেশি। এজন্যই আমাদের দেশে হাসপাতাল-বাণিজ্য একটা ব্যবসাসফল বাণিজ্যে পরিণত হতে পেরেছে। পপুলার, ইবনে সিনা, ল্যাবএইড, স্কয়ার, অ্যাপোলো সারাদেশের প্রতিটি জেলা সদর তো বটেই, উপজেলা পর্যায়েও শাখা খুলে রোগী-বাণিজ্য করছে। স্থানীয় অন্যান্য হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলো তো আছেই।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে খোঁজ নিয়ে দেখেন আমাদের দেশের মতো এত এত হাসপাতাল অন্যসব দেশে আছে কি-না।
এজন্য যখনই নতুন কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক খোলার সংবাদ দেখবেন, তখনই এটাকে দেশের উন্নয়ন মনে করবেন না। বরং মনে করবেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অবনতি ঘটছে। আমাদের দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। নাগরিকদের রোগ সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
এজন্য হাসপাতাল তৈরির সংবাদে খুশি না হয়ে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেন কমে যাচ্ছে সেটা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। কীভাবে দেশের মানুষ অধিক হারে অসুস্থ হচ্ছে, কেন প্রত্যেক পরিবারে দু-চারজন করে গ্যাস্ট্রিক-আলসারের রোগী তৈরি হচ্ছে, সেটা প্রতিরোধে গবেষণা করা জরুরি।
অসুস্থ হলে হাসপাতাল কোনো সমাধান নয়। বরং রোগ হওয়ার আগেই সেটা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়াটাই বেশি জরুরি।