২৪-এর বিপ্লব আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করেছে। এখন আমরা রাষ্ট্রের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলি, কথা বলতে পারি, দ্বিমত পোষণ করতে পারি, রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের ভুল ও স্থুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে পারি। এটা অনেক বড় একটা অর্জন। মূলত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রধানতম উপকরণই হচ্ছে জনগণের রাজনৈতিক সচেতন হওয়া।
রাষ্ট্র আপনার, সুতরাং আপনাকে কথা বলতেই হবে। যদি আপনি কথা না বলেন কিংবা প্রশ্ন তুলতে অস্বস্তি প্রকাশ করেন, আপনার রাষ্ট্র কখনোই গণপ্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে উঠবে না। সেই রাষ্ট্র হয়ে উঠবে ফ্যাসিবাদ, রাজতান্ত্রিক শাসনের অভয়ারণ্য। তাই রাষ্ট্র বা সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্তে কথা বলুন, প্রশ্ন করুন; প্রশ্ন করা আপনার নাগরিক অধিকার। যদি কখনো দেখেন রাষ্ট্র বা সরকার থেকে আপনাকে প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বা প্রশ্ন করার কারণে আপনার উপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে, ধরে নেবেন সরকার ফ্যাসিবাদের সিঁড়িতে তার পয়লা কদম রেখে ফেলেছে। এটা প্রথম ইঙ্গিত। আমরা সেই দুঃসহকাল খতম করে এসেছি। সেই দুঃসহকাল যাতে আবার ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করতেই আপনাকে বারবার কথা বলতে হবে। কথা বলতে ভয় পাবেন না। হোক সেটা অনলাইন বা অফলাইন।
কথা বলুন। বিপ্লব আপনাকে আপনার রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলার মহামূল্য সুযোগ এনে দিয়েছে। আপনার কথা ও প্রশ্নের ভিত্তিতেই গড়া হবে আগামীর বাংলাদেশ।