আমাদের দেশীয় নারীবাদীদের একটা রেজুল্যুশন বা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা দরকার। যেখানে তাদের নারীবাদ কায়েমের সকল ‘আব্দার’ স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে লেখা থাকবে। ইচ্ছা হলেই যেন তারা যখন তখন সেটা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে না পারে।

প্রকাশ্যে ধূমপান করা কবে কোন দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল? কোন জাতি ধূমপান করাকে নারীদের আপরাইজিং হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? সিগারেটের পু*টকিতে টান দিলেই মডার্নিজম হু হু করে শরীরের অন্দরে প্রবেশ করে?
আমাকে দু-একটা উদাহরণ দেখান। কোনো মুসলমান পণ্ডিত দরকার নাই, পশ্চিমা দেশেরই কোনো বহুমুখী নারীবাদীর সন্ধান দেন যিনি দাবি করেছেন যে ধূম্রপান করলে নারীদের স্বকীয় সত্ত্বা বিকশিত হয়। কোট করে দেখান।
আমাদের দেশের এই যে ফাৎরা কিছু নারীবাদী আছে না, যারা কিছুটা আ.লীগপ্রেমী, কিছুটা রাবীন্দ্রিক, অল্প একটু শাহবাগী, অনেকখানি সেক্সুয়ালিস্ট, হাল্কাপাত্লা পোতিবাদী, অল্পবিস্তর ধনীর দুলাল/দুলালী–এদের কাছে ফেমিনিজম হলো একটা নিষিদ্ধ লাইসেন্সের মতো। তারা মনে করে, যেহেতু আমি ফেমিনিস্ট/নারীবাদী হয়ে গেছি সেহেতু আমাকে এখন আর সমাজের আর দশজন মানুষের মতো চলা যাবে না। আমি এখন চলব ঠিক সমাজের বিপরীতে। ইয়েস, দিস ইজ সাইন্স!
‘আমি ফেমিনিস্ট, কাজেই ধর্ম ও দেশ-কালচারকে আমি কেয়ার করি না। F*u*ck u!! আমি নারীবাদী, সুতরাং কোনোভাবেই আমি সেক্সুয়াল মনোগামি সাপোর্ট করি না। বহুগামিতাই নারীর সৌন্দর্য! তুমি নারীর শরীরের মালিক না। আমার শরীর, আমার ডিসিশান!! আমি ফেমিনিস্ট, কাজেই আমি রমজান মাসে প্রকাশ্যে বিড়ি খাওয়ার অধিকার রাখি। আমার মুখ, আমার বিড়ি; যেদিক দিয়ে ইচ্ছা ধোঁয়া বের করব।’
এগুলো হচ্ছে আমাদের পাতি-নারীবাদীদের নিষিদ্ধতার লাইসেন্স। অল্প বয়সে বয়সের দোষে নারীবাদী হওয়ার মধ্য দিয়ে তারা মূলত নিজেদের জৈবিক সকল বাসনার লাইসেন্স কামনা করে। নিজ দেশের কালচার, ধর্ম, সামাজিকতা, পারিবারিক প্রথা এবং সাধারণ মানবিক ভব্যতা সবই এদের কাছে মনে হয় বন্দিত্ব। এই ‘বন্দিত্ব’ থেকে মুক্ত হতে তারা নানা সময় নানা ‘আব্দার’ নিয়ে হাজির হয় আমাদের সামনে।
এখন সমাজ, পরিবার, কালচার, ধর্ম যদি কোনো ব্যক্তির কাছে বন্দিত্ব বা অযৌক্তিক মনে হয়, তার মানে সে পরিপূর্ণ সামাজিক মানুষ না। যে সমাজে আপনি থাকবেন সেই সমাজের কৃষ্টি-কালচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতিকে তোয়াক্কা করবেন না, বলবেন যে আমরা পশ্চিমা দেশের সামাজিক রীতিনীতি ফলো করি; এভাবে তো হবে না দিদি! খাবেন আড়িয়াল খাঁ বিলের ধান আর হাগবেন বিলাতী স্টাইলে, এভাবে তো চলে না দিদিমনি।
আপনার অবাধ ‘জৈবিক’ স্বাধীনতার জন্য আপনি আমাদের দেশজ কৃষ্টি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিকতাকে প্রশ্ন করতে পারেন না। পশ্চিমের পৈশাচিক জৈবিক জীবনের মোহে আপনি আপনার কালচার-ধর্মকে অবজ্ঞা করতে পারেন না।
আল কুরআনে সুরা আরাফের ১৭৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা এদের কথাই আলোচনা করেছেন:

‘আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা আরও বেশি বিভ্রান্ত। বস্তুত এরাই হচ্ছে গাফেল।’


Leave a Reply

Your email address will not be published.