জুবায়েরপন্থী তাবলিগের মুরুব্বিদের একটা বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তাবলিগকে তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া। ‘ওয়াজাহাতী সম্মেলন’ নামে ২০১৮ সালে তাবলিগকে যখন রাজনীতিকরণ করা হলো, তখনই মনে হয়েছিল, যে তাবলিগ হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.) শুরু করেছিলেন, সেই তাবলিগকে কলুষিত করার মারণাস্ত্র তুলে দেওয়া হলো রাজনৈতিক নেতাদের হাতে।
অনেকে প্রশ্ন তুলবেন, আমি সাদপন্থীদের ব্যাপারে কিছু বলছি না কেন? সাদপন্থীদের ব্যাপারে তো নতুন করে বলার কিছু নেই। তাদের ভ্রষ্টতা, অপরিণামদর্শিতা, ঔদ্ধত্য এবং তাবলিগের নামে পেশিশক্তির ব্যবহার কোনোভাবেই তাবলিগের স্পিরিটকে ধারণ করে না। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের উপরমহলের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে অঙ্কুরেই তাদের টুঁটি চেপে ধরা যায়নি।
আওয়ামী লীগ ইচ্ছা করেই তাবলিগের দুটো গ্রুপের মধ্যে এতদিন ধরে বিবাদ জারি রেখেছে এবং এত বড় একটি হেদায়েতী জামাতকে ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ পদ্ধতিতে বিবদমান অবস্থা রেখে দিয়েছে। যাতে কিছুদিন পর পর তারা বিবাদে জড়ায় এবং এই বিবাদের ফলে মানুষের মনে তাবলিগ নিয়ে ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা আওয়ামী লীগের সেই পাতা ফাঁদে বার বার পা দিয়েছে।
তারা আক্রমণাত্মক হলে আমরাও আক্রমণাত্মক হবো, এটা তো তাবলিগের উসুল না। এটা রাজনীতির উসুল। ‘তুরাগ নদী রক্তে লাল করে দেওয়া’র মতো যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে তাবলিগ ১০০ বছর পার করেনি। তাবলিগ ১০০ বছর ধরে তুরাগ নদীপাড়ের মানুষকে নিভৃতে হেদায়েতের বাণী শুনিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের হেদায়েতের জন্য ১০০ বছর কখনোই তুরাগ নদী রক্তলাল করার প্রয়োজন হয়নি।
তাবলিগের উভয় পক্ষের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ থাকবে, তাবলিগের সমস্যা আপনারা কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন না। তাবলিগের উসুল দিয়ে আপনাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। রাজনীতি সবসময় বহির্মুখী, বক্তব্যনির্ভর, রাজপথমুখী, এটেনশন সিকার। কিন্তু তাবলিগ সর্বদা অন্তর্মুখী, হেদায়েতনির্ভর, মসজিদমুখী, দুনিয়াবি এটেনশন থেকে মুক্ত।
সুতরাং তাবলিগের সমাধান কোনোভাবেই রাজনীতির মাধ্যমে হবে না। আপনারা মসজিদে ফিরে যান। নিজেদের ৬ নম্বরে ফিরে যান। মসজিদের মিহরাব আর ৬ নম্বর দিয়েই আপনাদের সমস্যার সমাধান করুন। রাজনীতির হাতে তাবলিগ তুলে দিয়ে তাবলিগের এ মহান আন্দোলনকে আর কলংকিত করবেন না প্লিজ!