মানুষের বড় হওয়ার কিছু মানদণ্ড আছে। কিছু বিশেষত্ব—যেগুলো আর দশজন সাধারণ মানুষের মধ্যে পাবেন না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় হওয়ার পর আপনার আচরণগত এসব বিশেষত্বে পরিবর্তন চলে আসে কি-না, সেটার ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা। বড় হওয়া বলতে আমি অনলাইন সেলিব্রেটি হওয়া বুঝাচ্ছি না, বড় বলতে কর্ম ও ফিকিরের মাধ্যমে বড় হওয়া বুঝাচ্ছি।
শাইখ আহমাদুল্লাহর (হাফিজাহুল্লাহু) সঙ্গে আমার পরিচয় নগণ্য। তিনি যে মাপের ব্যক্তিত্ব, আমার নাম যে তিনি মনে রেখেছেন সেটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের। দু-তিন বছর আগে আমার একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তাকে দাওয়াত করেছিলাম। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও একবার বলার পরই তিনি রাজি হয়ে গিয়েছিলেন এবং অনুষ্ঠানে এসে জানিয়েছিলেন, আমার বইগুলো তিনি অনেককে পড়তে রিকমেন্ড করেন। এটা আমার জন্য কত আনন্দের ছিল, বলে বুঝানো যাবে না।
দুদিন আগে ছোটদের জন্য লেখা আমার সদ্য প্রকাশিত ‘মুসলিম বিজ্ঞানীদের সেরা আবিষ্কারের গল্প’ বই-সিরিজটি শাইখকে হাদিয়া দিতে গিয়েছিলাম। শাইখ শত ব্যস্ততার মাঝেও দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়ে যে হৃদ্যতা দেখিয়েছেন, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অযথা তাকে ছোট করতে চাই না। তবে শাইখের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষুদ্র সময়ে দেখা কিছু বিষয় আমাকে দারুণ প্রভাবিত করেছে।
আমরা ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর কর্ম ও সাধনা সম্পর্কে কম-বেশি সবাই অবগত। তার মতো সর্বজনবিদিত উম্মাহদরদী মানুষ আমাদের দেশে হয়তো আরেকজন খুঁজে পাওয়া দুরুহ। ধর্মীয় সকল শ্রেণি ও মতবাদের মানুষকে যেভাবে তিনি ভালোবাসার ঐকতানে আগলে নিতেন, আমাদের ধর্মীয় বিদ্বানদের মধ্যে এমন বুক উজাড় করা আহ্বান কল্পনা করতে কষ্ট হয়।
সেদিন শাইখ আহমাদুল্লাহর অফিসে বসে আমি যেন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর সেই সর্বজনমান্যতার প্রতিচ্ছায়া দেখতে পেলাম। আমি তার অফিসে দুই-আড়াই ঘণ্টা ছিলাম। এর মধ্যে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক এলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অ্যধাপক এলেন, এলেন চাকরিপ্রত্যাশী কেউ, সামাজিক সমস্যা নিয়েও এলেন কেউ কেউ।
সবচে ভালো লেগেছে, ঢাকার একটি স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখে। ১৫-২০ জনের তরুণ শিক্ষার্থীদলটি শাইখের কাছে এসেছে পরামর্শের জন্য। তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দ্বীনি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করছে, যেটির কাজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক দাওয়াত পরিচালনা করা। কীভাবে কাজটি সুচারুরূপে করা যায় এবং তাদের মধ্যে যে ধর্মীয় মতবাদকেন্দ্রিক মতদ্বৈততা রয়েছে, সেগুলো কীভাবে উপশম করা যায়—এই ছিল তাদের আরজু। শাইখ অল্প সময়ে এত জ্ঞানগর্ভ সমাধান দিলেন, তরুণদের চোখে মুখে ফুটে উঠল কৃতজ্ঞতার হাসি।
শাইখ অত্যন্ত অকপট মানুষ। যা বলেন সোজাসুজি। তার মধ্যে কোনো ভণিতা নেই, কোনো বানোয়াটী নেই। এই বিরল গুণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।
আল্লাহ শাইখকে ইসলাম ও মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার তৌফিক দান করুন!


Leave a Reply

Your email address will not be published.