সিজদা (Subha Safayet Shizda) নামের এই যে বিস্ময়কর মেয়েটা, তাকে আমি ফেসবুকে প্রথম দেখি দুই-তিন বছর আগে। কোনো একটা বই নিয়ে সে তার ফেসবুকে একটি ভিডিওতে তার অনুভূতি জানাচ্ছিল। দেখে হতবাক হয়ে গেলাম, আরিব্বাস! এইটুকুন মেয়ে এত্ত সুন্দর করে কীভাবে কথা বলে? শুধু সুন্দর করে কথা বলে তাই না, বই নিয়ে তার পর্যালোচনা, বইয়ের বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনা, পাঠক কী শিখতে পারে—এসব কথা সে বলছিল অকপটে। কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছিল, সে শিখিয়ে দেয়া তোতাপাখি নয়, বরং সে কথা বলছে তার অন্তর্গত জ্ঞান ও মেধার স্ফুরণে।
তার সেই ভিডিও দেখে আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম, তখনই ছোটদের জন্য লেখা আমার এক সেট বই তার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম। বইগুলো পেয়ে সিজদা দারুণ খুশি হয়েছিল এবং একটি ভিডিওতে সে তার অনুভূতি জানিয়েছিল। এরপর ছোটদের জন্য লেখা আমার আরেকটি সিরিজ যখন প্রকাশ পায় তখনও তার জন্য এক সেট বই এবং বইয়ের সঙ্গে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলাম।
মজার ব্যাপার হলো, গত সপ্তাহে যখন রাজধানীর ইন্দিরা রোডে সিজদাদের বাসায় বেড়াতে গেলাম, সে তখন সেই চিঠিটি খুলে দেখাল। হাতে লেখা চিঠিটি সে এখনও সংরক্ষণ করে রেখেছে। কী আনন্দের বিষয়!
তার পুরো নাম সুবহা সাফায়েত সিজদা। ফেসবুক বা ইউটিউবে আপনারা অনেকেই হয়তো এই ক্ষুদে বিস্ময়কর কন্যার ভিডিও দেখে থাকবেন। শুধু সোস্যাল মিডিয়া নয়, সিজদা বিভিন্ন সময়ে টিভিতেও অনুষ্ঠান করে থাকে। সে ছবিও আঁকে। বাসার দেয়ালে টাঙানো তার আঁকা ছবিগুলোও মনোমুগ্ধকর। তবে সিজদার ইচ্ছা, বড় হয়ে সে মহাকাশবিজ্ঞানী হবে। মহাকাশের অপার বিস্ময় তাকে বিস্মিত করে খুব।
আমার অনেক ইচ্ছা ছিল সিজদার সঙ্গে দেখা করার। এবার যখন ছোটদের জন্য আমার লেখা ‘মুসলিম বিজ্ঞানীদের সেরা আবিষ্কারের গল্প’ সিরিজটি প্রকাশ হলো, সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার আমি নিজে গিয়ে তাকে বই উপহার দেব। সুলতানস প্রকাশনীর কর্ণধার মিরাজ রহমান সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করলেন। গত সপ্তাহে আমি ও মিরাজ ভাই চলে গেলাম সিজদাদের বাসায়। সিজদার বাবা আমাদের সাদরে সম্ভাষণ জানালেন। তাঁর আন্তরিকতা এবং হৃদ্যতা ভুলবার মতো নয়।
আলাপের এক ফাঁকে যখন জানতে পারলেন আমার বাড়ি ধামরাই, তখন খাতিরযত্ন যেন আরেকটু বেড়ে গেল। কারণ, সিজদার নানাবাড়িও ধামরাই, আমাদের বাড়ির কাছেই। হাজার হলেও আমি এখন সিজদার মামা আর তার শশুরবাড়ি এলাকার লোক। সুতরাং খাতিরে কমতি রাখা চলে না। সত্যি, সিজদার বাবা সাফায়েত ভাইয়ের হৃদ্যতা ভুলবার মতো নয়। প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা তিনি ও সিজদা আমাদের সময় দিলেন, আমাদের ইন্টারভিউ নিলেন।
দোয়া করি, বিস্ময়কন্যা সিজদা তার অভীষ্ট লক্ষ্যের পানে দুরন্ত পদে এগিয়ে যাক। পার্থিব কোনো বাধাই যেন তার জয়যাত্রার অন্তরায় হতে না পারে। আল্লাহ তাকে কবুল করুন! আমিন!!


Leave a Reply

Your email address will not be published.