Abu Ubayda & Sayed Tanvir Enayet এই যে মানিকজোড়, এরা দুজন বাংলাদেশের ইসলামি সংগীতাঙ্গনে অমর হয়ে রইবে।আবু উবায়দার দিলখোলা ও দেশজ গায়কী এবং তানভীরের ভার্সেটাইল লিরিক্স—তাদের অমরত্বের জন্য যথেষ্ট।
সম্প্রতি ইউটিউবে রিলিজ হয়েছে এই মানিকজোড়ের নতুন নাতে রাসুল ‘বালাগাল উলা বিকামালিহি’। যারা খানিকটা মনোযোগ দিয়ে গান শোনেন, মনের কান দিয়ে গানটা শুনলে বুঝবেন, ‘বালাগাল উলা’র আরবি কনটেক্সট কত শৈল্পিক উপায়ে গানের ছন্দে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু ছন্দের মুন্সিয়ানা নয়, নাতের প্রতিটি ছত্রে নবীজির (সা.) প্রতি লেখকের যে গভীর নিবেদন ফুটে উঠেছে, তা অনবদ্য।
‘তোমার হাঁটার পর আমি উড়ি ধুলা
আমার হৃদয়ে বাজে বালাগাল উলা…’
নবীজির প্রতি অন্তরের অনন্ত প্রেম না থাকলে নিজেকে তাঁর পায়ের ধুলা হিসেবে উড়িয়ে দেয়া সহজসাধন নয়।
গানের সুরের অভিনবত্বও শ্রোতাকে বারবার এই গানের কাছে নিয়ে আসবে। উবায়দার সুর করা লাইনগুলোর তাল ও লয় বহুমুখী। আমাদের প্রথাগত ইসলামি সংগীতের একমুখী সুরের সীমাবদ্ধতা দুমড়ে মুচড়ে উবায়দা গানের লিরিক্সকে দিয়েছে বহুমাত্রিক বৈভব। ফলে শ্রোতার মনোজগৎ একই গানে নানা পদী সুরের মূর্ছনায় মোহিত হবে।
আমাকে সবিশেষ মুগ্ধ করেছে এই লাইন ক’টা:
মনে যদি প্রেম দাও গভীর
মুখে যদি ভাষা দাও কবির
সবকিছু ভুলে গিয়ে হে প্রিয় রাসুল
তোমার চরণে দেব কবিতার ফুল
এমন বহুধা অর্থবহ গান লিখতে যেমন স্বাধীনতা লাগে, তেমনি এমন গান গাইতেও লাগে বুকভরা সাহস। একজন শিল্পীর জন্য স্বাধীনতা ও সাহস সবচে জরুরি চিজ। এই দুই জিনিসের যদি কমতি থাকে শিল্পীর মন ও মননে, লিখে রাখুন, কোনো শিল্পই সৃষ্টিশীল সাফল্যে প্রস্ফুটিত হবে না। সারা জীবন কেটে যাবে কেবল অন্যের নকল আর সস্তা হাততালি কুড়াতে কুড়াতে।
আমি কামনা করব, আবু উবায়দা ও তানভীর এনায়েত তাদের আগামী সকল কাজে অবাধ স্বাধীনতা ও সাহস জারি রাখবে।
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম