ছবিটার দিকে ভালো করে তাকান। এক বিন্দু সাদা যে নোক্তাটি দেখা যাচ্ছে, ওটাই পৃথিবী। মহাকাশযান ভয়েজার ১ থেকে তোলা। ৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূর মহাশূন্য থেকে।
মহাকাশের বিরাট বিপুলা শূন্যতার মাঝে ওই ক্ষুদ্র বিন্দুটুকু আমাদের বাসভূমি। এত ক্ষুদ্র, ভালো করে না তাকালে চোখের শার্শিতে ধরা যাবে না। তীরচিহ্ন দিয়ে ধরিয়ে না দিলে বলা যাবে না কিছুর অস্তিত্ব ওখানে নির্দেশ করছে ৭০০ কোটি মানুষের। এত ক্ষুদ্র আমরা।
তবু আমরা অহংকার করি। গৌরব করি। নিজেকে আরও আরও উচ্চতায় নিতে মরিয়া। কত উচ্চতায় যাবে তুমি? ‘দ্যুলোক ভূলোক গোলক ভেদিয়া, খোদার আসন আরশ ছেদিয়া’ তোমার মাথা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? দেখো, খোদার অসীম শূন্যতার মাঝে তুমি এক সামান্য অণু মাত্র। এক অস্পৃশ্য ধূলিকণা সমান।
তবু আমাদের কত আয়োজন। কতভাবে আমরা ভালোবাসি। কতভাবে আমরা বড়াই করি অর্থের, ধর্মের, জাত-পাত, দেশ, মানুষে মানুষে। আমাদের কত চাওয়া। কত হাহাকার আমাদের হৃদয়ে।
কিন্তু যদি আমরা এই ছবিটির দিকে একবার তাকিয়ে ভাবি, এত ক্ষুদ্র এ জীবন। কীভাবে একজন মানুষের দিকে ঘৃণাভরে তাকাই? কীভাবে একজন মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি? কীভাবে করি অবজ্ঞা আরেকজনকে?
এই ক্ষুদ্র সৃষ্টিতে একটি জিনিসই কেবল এই সকল শূন্যতা তুচ্ছ করে সমাসীন হতে পারে অনন্ত। সেটি আমাদের হৃদয়ে উদ্গত ভালোবাসা। যেমন ভালোবেসে আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন। ওই ভালোবাসার অপার অসীম ক্ষমতা সঙ্গোপনে প্রোত্থিত করে দিয়েছেন আমাদের হৃদয়ে। ভালোবাসাই আমাদের হৃদয়ের ট্রান্সমিটার। যা সকল ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা, হীনতা ছিন্ন করে মিলিত হয় মহাশূন্যের ওপারে আরশের ডাটাবেজে।
মনে রাখবেন, ঘৃণা দিয়ে কখনোই আপনি আল্লাহর সঙ্গে কানেকশন তৈরি করতে পারবেন না। যতক্ষণ এই সৃষ্ট মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টির প্রতিও আপনার ঘৃণা রয়ে যাবে অন্তরে, আপনার সঙ্গে আল্লাহর কানেকশন ঘটবে না। আল্লাহর সঙ্গে কানেকশনের একমাত্র ট্রান্সমিটার আপনার ভালোবাসার সক্ষমতা।
সৃষ্টিকে ভালোবাসুন।

‘আমি আসমানসমূহ, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করিনি।’ (সুরা আল-হিজর, আয়াত ৮৫)


Leave a Reply

Your email address will not be published.