বাড়ি থেকে যখন বাসস্ট্যান্ডে এলাম, তখন বৃষ্টি দুই দফা হয়ে গিয়ে তৃতীয় কিস্তির মুষলধার শুরু হয়েছে। ছাতা আলতাফ মামার দোকানে রেখে বৃষ্টি-রাস্তা পেরিয়ে অপর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, অটো বা বাসের আশায়। ততক্ষণে বর্ষণ তীব্র আকার নিয়েছে। আমার পাশে যারা দাঁড়িয়ে আছে, আকসার নারী-পুরুষ গার্মেন্টসকর্মী। তাদের অধিকাংশের জন্য স্টাফ বাস আছে, তারা সেগুলোর প্রতীক্ষায়।
কয়েকটা সিএনজি-অটো চলে গেল, কিন্তু ভরপুর। যেগুলো কিঞ্চিত খালি, সেগুলোতে উঠলে কাকভেজা তো ভালো, বকভেজা হওয়া ছাড়া গতি নাই। মিনিট কয়েক অপেক্ষা। একটা বাস এলো, গার্মেন্টসের স্টাফ বাস। নারীকর্মীরা বৃষ্টি মাড়িয়ে উঠে গেল। আমি তাদের এত্তেবা করে উঠে গেলাম বাসে। এছাড়া উপায় নাই। ইতিমধ্যে সাড়ে ছয়টা উতরে গেছে ঘড়ির কাঁটা।
গার্মেন্টসকর্মীদের ভিড়বাট্টা বাসে। কোনোমতে দরজার সন্নিকটে নিজেকে দণ্ডায়মান করতে পারলাম। মিনিট দশেকের মধ্যে কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলাম। ভাড়া দিতে হলো না। স্টাফ বাসে কোনো কন্ডাক্টর থাকে না। তাই বৃষ্টিবিলম্বিত দু-চারজন যাত্রীর ভাড়া নেওয়ার চল নেই।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা নাম্নী কতেক দ্রুতগামী যান চলাচল করে। কালামপুর নেমেই শুভযাত্রা পেয়ে গেলাম। কিন্তু সিট খালি নেই। অগত্যা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুরু হলো যাত্রা। বৃষ্টি ততক্ষণে ধরে এসেছে। ধামরাই-সাভার পার হতে হলো দাঁড়িয়েই। তাও তো ঘণ্টাখানেকের ধকল।
বাড়িতে এক ক্ষেতের ধান কেটে বাড়ির ছাদে তুলে রেখে এসেছি। বৃষ্টিতে সেগুলো ভিজল কিনা, চিন্তা হয়। এমন বৃষ্টি হলে ধান শুকাতে বেগ পোহাতে হবে অঢেল। তাছাড়া আরেক ক্ষেতের ধান কাটা হয়নি। গতকাল বিকেলে বিলে ধান-কাটার মস্ত বড় চায়নিজ মেশিন এসেছে। আধা ঘণ্টায় এক বিঘা জমিনের ধান কেটে একদম নাস্তানাবুদ করে ফেলে। ধানও হয় পরিস্কার, উড়িয়ে ‘জাবা’ পরিস্কার করতে হয় না। কিন্তু এমন বৃষ্টি থাকলে সে মেশিনেও তো ধান কাটা যাবে না। আর বৃষ্টিতে যদি ধানগাছ শুয়ে পড়ে ক্ষেতে, কপালে খারাবি আছে তবে!
গাবতলী এসে বসতে পারলুম। বাসের গবাক্ষপথে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম, বৃষ্টি আবার জমজমাট। ধানমণ্ডি ২৭ যখন নামতে যাব, রাস্তায় হাঁটু পানি। ওই রাস্তায় অবতরণ করব কীভাবে? পাজামা ভিজলে নিস্তার নেই। তাও আবার এই কদাকার গন্ধিৎসু জলে! ড্রাইভারকে বললাম, গাড়ি রাস্তার ডানপাশে রোড ডিভাইডারের পাশে রাখেন। ওই জায়গাটা বাঁয়ের পাড় থেকে উঁচু। নেমে রাস্তা পার হয়ে এলাম।
ঝা ঝা বৃষ্টি। ভাগ্য ভালো রিকশা ছিল। গোলাপী রংয়ের পলিথিন মুড়িয়ে রিকশা-চাচাকে নিয়ে অফিসের দোরগোড়ায়। ৩০ টাকার ভাড়া চাচা চাইল ৪০। আমি ৫০ টাকার নোট দিয়ে বললাম, রেখে দেন। এই বৃষ্টিতে এত কষ্ট করছেন, নাস্তা করে নিয়েন।
অফিসে ঢুকতে ঢুকতে সাড়ে আট। শুরু হলো আবার সেইসব দিনরাত্রি…!