যে দেশে প্রতি বছর কোনো না কোনো অঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়, লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্বিষহ বিপদের সম্মুখীন হয়; সেই দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ আপৎকালীন সরঞ্জাম, উদ্ধার সরঞ্জাম, স্পিডবোট না কিনে ফুটানি দেখিয়ে আকাশে পাঠানো হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’।
২৭ শ কোটি টাকা ব্যয়ে আকাশে পাঠানো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ হলো টিভি চ্যানেলের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা। যেটা অন্য যে কোনো দেশ/কোম্পানির স্যাটেলাইট দিয়েই করা সম্ভব ছিল। নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অর্থে ফুটানি দেখানোর জন্য স্থাপন করা হয়েছিল এই স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধুর নাম মহাকাশে উৎকীর্ণ করতে হবে– এ ছাড়া তেমন কোনো বিশেষ উপকার নেই এই স্যাটেলাইটের।
***
দেশের আরেক গলার কাঁটা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুধুই ফুটানি ও অর্থ আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয় এই টানেল। এই প্রকল্পের অর্ধেকেরও কম খরচে এখানে একটি ব্রিজ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ফুটানি করার জন্য অযথা ব্যয় করা হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধুর নাম পানির তলেও উৎকীর্ণ করা হবে– এই ছিল শেখ হাসিনার অভিলাষ। তাতে জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ হলে হোক!
এখন এই বঙ্গবন্ধু টানেল দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিদিন এ টানেল থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার টোল আদায় হবে। কিন্তু বর্তমানে টানেল থেকে টোল বাবদ দৈনিক গড়ে আয় হচ্ছে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ এই টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দিনে ব্যয় হয় গড়ে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২৫ লাখ এবং মাসে সাড়ে সাত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে এই টানেলকে। (২৬ মে ২০২৪, প্রথম আলো)
এমন আরও বহু প্রকল্প ও উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে শুধুমাত্র ফুটানি দেখানোর জন্য এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের জন্য।
অথচ এই টাকা দিয়ে যদি বন্যা ও দুর্যোগকালীন বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা হতো, আজ মানুষকে এত কষ্ট ও দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। প্রতি বছর যে বন্যায় লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগে জর্জরিত হয়, তাদের সে দুর্ভোগের চিন্তা না করে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন কেন জরুরি ছিল, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
এর জন্য এ দেশের মানুষ কোনোদিন শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করবে না।