গোটা এক মাসের আন্দোলনের কোথাও রবীন্দ্রনাথ আসেননি। আন্দোলনের পর শহরের দেয়ালে দেয়ালে যত গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে, তার একটিতেও রবি ঠাকুরের দু লাইন কবিতা বা গান আমার চোখে পড়েনি। অনেক খুঁজেছি, পাইনি। আপনাদের কারো চোখে পড়লে জানাবেন।
অথচ গোটা আন্দোলনে বারবার ধ্বনিত হয়েছে নজরুল:
বল বীর,
কারার ঐ লৌহকপাট,
মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম,
দুর্গম গিরি কান্তার মরু,
চল চল চল
নজরুল যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছেন আমাদের। নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কোনোভাবেই শেষ হবে না আমাদের জাতীয় জীবনে।
এছাড়াও এসেছেন দ্বিজেন্দ্রলাল, জহির রায়হান, মোহিনী চৌধুরী, হেলাল হাফিজ, সিকান্দার আবু জাফর, ফররুখ আহমদ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্সহ সমসাময়িক তরুণ আরও অনেক কবি। কিন্তু রবিবাবুকে কোথাও পেলাম না। পেলাম না মানে পেলামই না। একেবারে ঠুঁটোজগন্নাথ!
এখন দুঃখ নিয়েই বলতে হয়, যে রবিবাবু আমাদের দ্রোহে বিপ্লবে জাগরণে কোনোভাবেই নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারেন না এবং যাকে শিক্ষিতশ্রেণির ড্রয়িং রুমের রোমান্টিক আবহ ছাড়া আমাদের খুব একটা প্রয়োজনও হয় না, তার গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে রাখতেই হবে—এটা জাতি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এক প্রকার ব্ল্যাকমেইলিং করা।
অখণ্ড ভারত ছিল যে রবিবাবুর জাতীয় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ধ্যান-জ্ঞান, তার দেশাত্মবোধক একটি গানকে অন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘চালিয়ে দেয়া’—এটা রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জন্য অপমানজনক। বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকেরা কি এতই দরিদ্র যে নিজ মাতৃভূমির জন্য তারা নতুন একটি গান লিখতে পারবে না?


Leave a Reply

Your email address will not be published.