আমি একটি সিরাতগ্রন্থ লিখব। এটি আমার লেখকজন্মের বহুদিনের সুপ্ত লালিত সাধ। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে যখন আমি লেখালেখি শুরু করি, তখন থেকেই এ সাধ মনের মধ্যে দৃঢ় হয়েছিল—আমাকে একটি সিরাতগ্রন্থ লিখতেই হবে।
কিন্তু সেটা লেখার আগে আমাকে সিরাত ও নববি ইতিহাস বিষয়ক বিশদ জ্ঞানার্জন করতে হবে, সাহিত্যের বিভিন্ন তবকা নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে এবং যে কাজটি কিছুটা হাস্যকরও শোনাতে পারে, পণ করেছিলাম—আমার বয়স ৪০ না হওয়া পর্যন্ত আমি নবীজির সিরাত লেখার কাজে হাত দেব না।
এর পেছনে যে যুক্তি, সেটা খানিকটা সুফিতাত্ত্বিক মনে হতে পারে, তবে আমার কাছে বেশ যুৎসই মনে হয়েছে। নবীজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তপ্রাপ্ত হন ৪০ বছর বয়সে। মানবজীবনে ৪০ বছর বয়স একটি মাইলফলক। বয়সের এই স্টেজে এসে সাধারণত মানুষের চিন্তা ও অভিজ্ঞতা পরিণত হয়। তার চিন্তা করার তরিকা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে সবকিছু সূক্ষ্মভাবে বিচার করার সক্ষমতা হাসিল হয়। এ কারণেই হয়তো নবীজির নবুয়তের জন্য ৪০ বছর বয়সকে নির্ধারণ করেছেন আল্লাহ তাআলা। সুতরাং এই মহামানবের জীবনী লিখতে হলে আমার অন্তত বয়সের দিক থেকে অতটুকু চিন্তা ও অভিজ্ঞতার পূর্ণতা প্রয়োজন। বস্তুত কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে সেটা তো আল্লাহই ভালো জানেন।
এই ছিল আমার একান্ত যুক্তি। খোদার শোকর, এ বছর আমার বয়স ৪০ হলো। এবার সিরাতগ্রন্থ লেখার কাজ শুরু করতে পারব কিনা, সেটার বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ আল্লাহর হাওলায়। তবে নিজের লেখালেখিতে এক ধরনের মাৎস্যন্যায় বিরাজ করছে। বেশ কিছুদিন ধরে আমি সৃজনশীল তেমন কিছুই লিখছি না। নিজেদের পত্রিকা নবধ্বনির জন্য প্রতি মাসে কিছু না কিছু লিখি, তবে সৃজনশীল বই-পুস্তক লেখার হাতসাফাই করতে তেমন আগ্রহ হচ্ছে না। হয়তো সিরাত লেখার একটা মনোবাসনা হৃদয়ের অন্তস্থলে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে।
বিগত কয়েক বছরে শিশুদের জন্য আমি প্রচুর লিখেছি। এটা করেছি দুটো কারণে। এক. চার-পাঁচ বছর আগে আমি যখন শিশুদের জন্য বই প্রকাশ শুরু করি তখন আমাদের ইসলামি প্রকাশনা জগতে শিশুতোষ বই একেবারেই ছিল না। এই শূন্যতা ঘুঁচাতে শিশুদের জন্য বই লেখা শুরু করি। তার পর থেকে অন্য লেখক ও প্রকাশকগণ শিশুদের জন্য বিপুল পরিমাণ বই প্রকাশ করতে শুরু করেন। ইসলামি প্রকাশনা জগতে এটি একটি শুভ উদ্যোগ।
দুই. শিশুদের জন্য এ পর্যন্ত আমি ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন সিরিজে মোট ২৮টি শিশুতোষ বই লিখেছি। আরও ১০টি বই শিগগির প্রকাশ হবে আমার নতুন কর্মস্থল Akij-Monowara Prokashoni থেকে এবং এ ছাড়াও বেশ কিছু সিরিজ লেখার প্রস্তুতি চলছে। তো, শিশুদের জন্য এই বিস্তর বই লেখার অন্যতম আরেকটি কারণ ছিল আর্থিক স্বাবলম্বিতা। যেহেতু একটি সিরাতগ্রন্থ লিখতে গেলে আমি দীর্ঘদিন অন্যকিছু লিখতে পারব না এবং আমাকে প্রচুর পরিমাণ রেফারেন্স পুস্তকাদি কিনতে হবে, সেহেতু শিশুতোষ বইগুলোর রয়্যালিটি হবে আমার আর্থিক সঙ্গতির একটি প্রধান উৎস। আর আমি বই প্রকাশের আগে সাধারণত কোনো প্রকাশক থেকে অগ্রিম সম্মানী গ্রহণ করি না বিধায় আমার নিজের আর্থিক স্বাবলম্বিতার ব্যাপারটা নিজেকেই সমাধা করতে হয়েছে।
আপনাদের সকলের কাছে একান্তভাবে দোয়াপ্রত্যাশী। আমি যেন আমার মনের সকল প্রেম ও মাধুরি মিশিয়ে নবীজির জীবনীগ্রন্থ রচনা করতে পারি, যে গ্রন্থ রচনার স্বপ্ন দেখে আসছি বহু বহুদিন ধরে।
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান্নাসির…