আমাদের মসজিদগুলো রাজনীতিশূন্য করা হয়েছে। এটা কখন কীভাবে হয়েছে, আমার জানা নেই। তবে মুসলিম সমাজে মসজিদ কখনোই রাজনীতিশূন্য ছিল না। নবীজির (সা.) যুগ থেকে প্রতিটি খেলাফত এবং মুসলিম সাম্রাজ্যে মসজিদে রাজনীতি ছিল। সাম্রাজ্যের প্রতিটি বড় বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মসজিদে ঘোষণা করা হতো। এমনকি বড় বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় মসজিদে খলিফা বা বাদশাহর নামে খুতবা পাঠ করা হতো, আবার খলিফা/বাদশাহর বিরুদ্ধে কেউ বিদ্রোহ করলেও তাকে বড় কোনো শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের মিম্বরে এসে ঘোষণা করতে হতো। কেননা মসজিদ ছিল মুসলিম সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। মসজিদ ছাড়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একসেপ্টেন্স চিন্তাই করা যেত না।
মসজিদকেন্দ্রিক বিচারালয় ছিল। এমনকি এর প্রচলন ছিল বাংলার সুলতানী আমলেও। সুলতানী আমলের মসজিদগুলোতে এখনও বিচারালয়ের অবকাঠামো দেখতে পাওয়া যায়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শহরের বাদশাহ বা গভর্নর সামাজিক সমস্যা নিয়ে মসজিদে সময় দিতেন। জনগণ তাদের সমস্যার কথা জানাতেন শাসককে।
আমাদের সময়ে এসে আমরা দেখি, মসজিদ সুনসান নীরব এক ইবাদতখানায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতি তো দূরের কথা, সেখানে কেউ জোরে কথাও বলতে পারে না। আমাদের মসজিদ থেকে সমাজকে জুদা করে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম-মহল্লায় একাধিক মসজিদ। সেসব মসজিদ আমরা কেবল বৃদ্ধদের জন্য ওয়াকফ করে রেখেছি। মসজিদকে রাজনীতিশূন্য করার মাধ্যমে তরুণশূন্যও করা হয়েছে। এগুলো আমাদের অজ্ঞতা।
ফলে এখন মসজিদের ইমাম-খতিব সামান্য রাজনৈতিক কথা বললেই তার চাকরি চলে যায়, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হয়, তাকে বলা হয়—এটা আপনার এখতিয়ারে পড়ে না। আপনি কথা বলবেন কেবল ‘ধর্ম’ বিষয়ে। এই অজ্ঞতার ফলে রাজনীতি ধর্ম থেকে জুদা হয়ে গেছে।
‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা নিষেধ’ সাইনবোর্ড প্রতিটি মসজিদে লাগানো থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা কে দিল? কুরআন-হাদিসে তো এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এটাকে অনেকে হাদিস মনে করেন। বস্তুত এটা কোনো হাদিস নয়। এটা মসজিদ থেকে সমাজকে জুদা করার একটা অজ্ঞ হাতিয়ার।