‘লেবু ক্ষেতে একটা নিড়ানি দেয়া প্রয়োজন’
এটা শুনে সিরিয়ার একজন কৃষক মসৃণ কবরটা
খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন—‘এই মাটি, এই ধুলো
সবকিছু আমাদের সন্তানদের রক্ত-মাংসে তৈরি’,
লেবু ফুলের যে ঘ্রাণ, আমি সেই ঘ্রাণ ভালোবাসি
সাদা-বেগুনী ফুলের পাপড়িগুলো সুডৌল, বাতাসে ঝরে পড়ে না
হাওয়া এলে, দুলতে থাকা ডালগুলোর ঝিরিঝিরি শব্দ ভালো লাগে
গাছের গোড়ায় জন্মেছে আগাছা-ঘাস, এগুলো দ্রুত কাটতে হবে
সিরীয় কৃষকটির হাতের ভোঁতা কোদাল
গভীর থেকে তুলে আনছিল মাটি
কপাল থেকে ঠোঁট বেয়ে নেমে আসা ঘাম চেটে তিনি বললেন—
‘আমরা রোপন করি গোলাপ, দামেস্কের ‘রোজা দামাস্কাস’
বুলগেরিয়া থেকে কলম করা এ গোলাপের রং
চেচেন নারীদের গালের মতো গোলাপি, ভেলভেটের মতো কোমল;
আমাদের সন্তানদের প্রতিটি কবরের উপর রোপন করা
একেকটা গোলাপি দামাস্কাস কী গর্বিত, কেমন স্পর্ধিত, দেখুন—
যেন একেকটা লাশের মালিকানা পেয়ে নৃত্য করছে একেকজন স্বর্গীয় হুর
আর প্রত্যেকটা গোলাপের রং গোলাপি থেকে
দিন দিন হয়ে ওঠছে টকটকে লাল’
হঠাৎ একটি জঙ্গিবিমানের হাবিয়া দোজখ শব্দ এল
মুহূর্তে মাটির নিচ থেকে ফুঁসে উঠল মাটি
ফুলের আঘাতে রক্তাক্ত হল ফুল
সিরীয় কৃষকের বুক থেকে উড়ে গেল অর্ধেকটা বুক
তাকে নিজের খোঁড়া কবরে দাফন করল তার একমাত্র পঙ্গু ছেলে
রোজা দামাস্কাসের অভাবে—
কবরের উপর রোপন করা হল একটি কলম-করা লেবু চারা
লেবু ক্ষেতে নিড়ানি দিতে দিতে একদিন আমি দেখলাম—
কৃষকের কবরের উপর গজিয়েছে এক নিঃসঙ্গ লেবু বৃক্ষ
বৃক্ষের কাণ্ড লাল, ডালগুলো লাল, সকল পাতা ও কাঁটা লাল
প্রতিটি ফুল ও পাপড়ির রং লাল, রক্তাক্ত-লাল; আর
লেবুর বদলে প্রতিটা ডালে ডালে ঝুলছে থোকা থোকা আর্তনাদ—
হে আমার সন্তান…আমার সন্তান…আমার সন্তান…
কবিতা: অভিশপ্ত কৃষক
কবিতাপুস্তক: আয়েশা
কবি: সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর