বক্তা নামের বাঁশিওয়ালা

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ বক্তা বললেন— একবার সোবহানাল্লাহ বলবেন আর সঙ্গে সঙ্গে অামলনামায় লেখা হবে ২০ লক্ষ তরুতাজা নেকি, বলেন সোবহানাল্লাহ মহফিলে দলে দলে যোগদান করা হাজার দশেক শ্রোতা সমস্বরে বলে উঠলেন—সোবহানাল্লাহ! মহফিলের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা সকলের অ্যাকাউন্টে বিশ লাখ বিশ লাখ নেকি জমা করে দিলেন মহফিলের আলো ঝলমলে গেটের পাশে Read more…

আমি যে কিশোরের বেদনার কাছে বসি

একজন কিশোর বা একজন কিশোরী বহুভাবে কষ্ট পেতে পারে। তার সামনে কষ্ট পাওয়ার এত এত উপকরণ থাকে যে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় তার কষ্ট পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা চারপাশে ঘুর ঘুর করে।  কিশোর বয়সটা দারুণ স্পর্শকাতর। কেন? বলছি সে কথা। আমরা যখন শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ করি, ধরুন, বয়স দশ-বারো থেকে যখন তেরো-চৌদ্দ-পনেরোতে Read more…

সহিংস সময়ের জরুরি কথা

সহিংস সময়ে একটা সামান্য জরুরি কথা বলি।  তাবেয়ি হজরত শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলায়হি একবার হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্রাহু আলায়হি ওয়সাল্লাম যখন ঘরে আসতেন তখন সবার আগে কোন কাজটা করতেন?’ আয়েশা রাদি. উত্তর দিলেন, ‘তিনি সবার আগে মেসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম শরিফের বরাতে মুনতাখাব হাদিস, পৃষ্ঠা ১৯৮) যারা Read more…

তাবলিগ হয়ে যায় ব্যথার দহন

মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয়, আমি জঙ্গে সিফফিনের বর্শায় গাঁথা সেই এক জিলদ কুরআন হয়ে যাই। হজরত মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাহিনী রক্তাক্ত যুদ্ধের ময়দানে যে কুরআনকে বর্শায় বেঁধে সুউচ্চে তুলে ধরে বলেছিলো, ‘আর যুদ্ধ চাই না। আমাদের মাঝে ন্যায়ের ফয়সালা করবে এই কুরআন।’ আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাহিনী কুরআনের সম্মানে সেদিনই যুদ্ধবিরতি Read more…

ডিসেম্বরের পদাবলী

ভালোবেসে নিহত হলো আমার যেসব স্বপ্ন তারা সবাই শহীদ এখন, পাঠ্যবইয়ের রত্ন মরণোত্তর খেতাব পেয়ে তারা ‘প্রেমশ্রেষ্ঠ’ আমি, প্রেমাহত মুক্তিযোদ্ধা একা একা দেই পাহারা তোমার হৃদয়-রাষ্ট্র

বুকপকেটে আগুন দিলাম

কার কাছে রাখি গচ্ছিত বর  আগুন আগুন এই অভিশাপ এই অভিশাপ তোমার নামে পাঠিয়ে দিলাম নষ্ট হলে সিংহাসনের খড়্গ-কৃপাণ এই অভিশাপ ছড়িয়ে দিলাম ধানের কাছে মাটির কাছে, সাঁঝ-বিকেলে হাঁসের ডানায় তুলে দিলাম, রক্তকমল ঝোঁপের রঙে এই অভিশাপ শিশুর কানে বলে গেলাম নদীর স্রোতে পলিমাটি, উজান-ভাটির তাগড়া দেহে ভাসিয়ে দিলাম এই Read more…

এতদিন কোথায় ছিলেন

এরপর থেকে বিস্তীর্ণ পথ হেঁটে যাবো, কাজী কুসুম থেকে চুমুক দিয়ে পান করবো শুভ্র বিষ মাটির মধ্যে গড়াগড়ি করে দাফন করবো স্বপ্ন নষ্ট নদী সাঁতরে পার হয়ে চলে যাবো জ্যোৎস্নার অনশনে ক্ষুধা-ক্লান্তিতে বেদনার কাঁধে মাথা রেখে নুয়ে পড়বো রাত্রি উদ্বেল বালিকাদের ঘরের পাশ দিয়ে যেতে খুব শিশ মারবো আর মুখে Read more…

রাসুলের জন্য কবিতা এবং আমি যা পড়লাম

‘রসূল (সা.)কে নিবেদিত কবিতা’ বইটি পেলাম এহসানের বাসায়। এর আগে আসাদ বিন হাফিজ ও প্রয়াত মুকুল চৌধুরী সম্পাদিত ‘রাসুলের শানে কবিতা’ কাব্যসংকলনটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় রচিত বিখ্যাত সব রসুলপ্রশস্তি কবিতা স্থান পেয়েছিল। বইটি পড়ে বিশেষ ঋদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু হাতে নেয়া বইটি কেবলই বাঙালি কবিদের রসুলপ্রশস্তি দিয়ে সাজানো Read more…

একটা দুইটা তমুক ধর – সকাল বিকাল নাস্তা কর

প্রচলিত একটা স্লোগান আছে— ‘একটা দুইটা তমুক ধর – সকাল বিকাল নাস্তা কর’! মিছিলকারী লোকজন প্রতিপক্ষের নাম ধরে এই স্লোগান দিয়ে থাকে। কিন্তু এই স্লোগানের মর্মোদঘাটন করা আজ পর্যন্ত আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই স্লোগান বড় মশহুর স্লোগান। একসময় পল্টন-মুক্তাঙ্গনের মিছিলে আমিও বহুত দিয়েছি। মর্মোদঘাটন ছাড়াই দিয়েছি। স্লোগানের জন্য মর্ম Read more…

আমার জলশৈশব : প্রেমপত্রলেখক

‘পুকুরেতে পানি নাই পাতা তবু ভাসে যার সাথে দেখা নাই সে কেন হাসে’ আমার কৈশোরকালের একটা সময় কেটেছে বিখ্যাত ‘পত্রলেখক’ হিসেবে। নানাধর্মী পত্র; বাবা-পত্র, মা-পত্র, প্রবাসী ভাই-পত্র, দূরে থাকা বন্ধু-পত্র এবং অতি আবশ্যিক প্রেমপত্র। নানাজনের প্রেমপত্রের লেখক হিসেবে আমার আলাদা সুনাম ছিলো বন্ধু এবং ভাই বেরাদরমহলে। ছড়া-কবিতার হাতসাফাইটা তখন কেবল Read more…