কেন লিখতে গেলাম এইসব পুস্তকাদি! একে একে চল্লিশ!!
নসিম হিজাজি আর হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের উপন্যাস পড়তে পড়তে ঘোরের মধ্যে কেন যেন মনে হয়েছিল, আমি তাহলে লেখক হই। অবন্তী নীল আকাশকে বলব—বন্ধু। বুকের ভেতর দিয়ে করাত চলে গেলে কবিতার বুকে সমর্পিত হবে রোদনোল্লাস। প্রেম এসে খুনির মতো রক্তাক্ত করে দিলে গোলাপ, আমি নবীজির (সা.) প্রেমময় জীবন সমীপে চাইব অভয়াশ্রয়। কিছু গল্পে যুদ্ধের কথা বলব, কিছু রচনায় উড়িয়ে দেব শান্তির কপোত। প্রেম রাখব, গলতি রাখব, অবাক হওয়া কিসসা বলব, অলৌকিক কোনো এক জীবনের স্বপ্ন দেখাব কাউকে কাউকে। তাহলে লিখি কিছু পুস্তক!
অনেকটা শখের বশে, কিছুটা জেদ, কিছুটা উপার্জনের অবলম্বন, আর খানিকটা এক্সপেরিমেন্ট করার খাহেশে লিখতে থাকলাম। লিখলাম গল্প, কবিতা, ইতিহাস, গল্পভাষ্য, শিশুতোষ, অলৌকিক জীবন, জীবনের ইতিহাস এবং আরও নানাপদী শোভন লেখা। হতে হতে ৪০টি বই। জন্মাবধি ৪০টি পুস্তকে নিজের নাম দেখে নিজেই চমকে উঠি। নিজের জন্মের দাগ কি রেখে যেতে পারলাম? এই প্রশ্নের জবাব কেউ দেবে না, সময় দেবে। সময় বড় নিষ্ঠুর, দারুণ জাজমেন্টাল।
লিখতে লিখতে কারো প্রিয়জন হলাম, কারো প্রিয়তম, বন্ধু হলাম অনেকের, মানুষ সম্মান দিল, আবার কারো হলাম চোখের কাঁটা, কেউ থুতু ছিটানোর মতো করে আমার দিকে ছুড়ে মারল সমালোচনা, কারো কারো নিন্দা আমাকে শেখালো—কীভাবে ঝড়োকা রাত্রিতে একা ভেলা বাইতে হয় ক্রন্দসী বেহুলার মতো। লেখক হওয়ার এত জেদ আমার, লিখতে না বসলে বুঝতে পারতাম না। আমাকে তবে লিখতেই হবে, তাই না? নইলে আমি প্রমাণ করব কীভাবে যে আমি তোমাদের কেয়ার করি না!
পাঠকের ভালোবাসা হররোজ কড়া নাড়ে। যদিও আমি পাঠকবান্ধব, ভক্তনবীশ লোক নই। তবু পাঠকের ভালোবাসা থাকে। কেন থাকে, কে জানে! আমি যে কিসিমের লোক, খুব চাছাছোলা, লেখক টেখক ভাব বলতে নেই। হুটহাট ফেসবুকে কি-সব জমিদারী দরবেশী করে বেড়ায়! এমন লেখক কোনো লেখক হলো নাকি!! তবু কিছু বোকা মানুষ বই কেনে। পাঠকের বোকামি লেখকের রুটি রুজি হলে একটা পৃথিবী না হয় বোকাই থাকুক!
আমি সেইসব মানুষের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ, যারা লেখালেখির শুরুতে আমাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, হবে, তোকে দিয়ে হবে। যারা পিঠে হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেননি, আমার সামনে নিজেদের দুই হাত পেতে বলেছিলেন, যা, এই হাতে পা দিয়ে তুই আকাশ ছোঁয়ার বিদ্যা রপ্ত কর পাগলা। সেই পাগলা পাগলামি করতে করতে আকাশ ছুঁতে পারেনি সত্য, কিন্তু সে আকাশ দেখার অনবদ্য ইলম হাসিল করেছে, আর সবার চেয়ে ভিন্ন চোখে। আমি তাই কেবল ওই আকাশের একক অধিশ্বরের সামনে নত হতে পেরে তৃপ্ত হই। তাঁর সামনেই কেবল নতজানু আমার সকল অর্জন।
তাছাড়া আমি আর কোথাও লিখতে শিখি নাই—ফুলস্টপ!
পুনশ্চ: যারা আমার পুস্তকাদির খবরাখবর রাখতে চান, তারা এ পর্যন্ত আমার প্রকাশিত ৪০টি পুস্তকের প্রচ্ছদ সম্বলিত এ পোস্টটি সেভ করে রাখতে পারেন। এর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের কামিয়াবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.