‘উদ্যোক্তা’র (Entrepreneur) একটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ধারণা এমন দাঁড়িয়েছে, উদ্যোক্তা বলতেই আমরা ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করা নতুন কোনো উদ্যোগকে বুঝি। কিন্তু ইসলামি কনসেপ্টে উদ্যোক্তার অর্থ আরও ব্যাপক, আরও বিস্তৃত।

উদ্যোক্তা নিয়ে বাংলাদেশের ইসলামি ইতিহাসে একটি চমৎকার কনসেপ্ট আছে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে প্রাচীন সুফি-দরবেশদের এত সফলতার কারণ তালাশ করতে গিয়ে ইতিহাস-গবেষক রিচার্ড এম ইটন উল্লেখ করেন, এই এলাকার যারা সুফি-দরবেশ-পীর ছিলেন, তারা ছিলেন ‘উদ্যোক্তা পীর’। উদ্যোক্তা পীর হলো এমন পীর, প্রাচীন সমাজে সাধারণ মানুষ যেসব সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হতো, এসব পীর সেসব সমস্যা সমাধানে আধ্যাত্মিক এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে আসতেন এবং নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। শুধু ধর্মীয় উদ্যোগ নয়, পীরগণ সামাজিক সমস্যায়ও অভিনব উদ্যোগে এগিয়ে যেতেন সবার আগে। ফলে সমাজের মানুষ তাদের কথা ও কাজে দারুণভাবে প্রভাবিত হতো। বাংলা অঞ্চলে ইসলাম প্রসারে এজন্য পীর-দরবেশদের প্রভাব এত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সামাজিক উদ্যোক্তা কনসেপ্ট কই থেকে এলো? বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের নবীজি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম) ছিলেন ইসলামের প্রথম উদ্যোক্তা, প্রথম অন্টারপ্রেনর। মক্কায় হিলফুল ফুজুল থেকে শুরু করে দামেশকে তার ব্যবসায়িক সততা আমাদের সামনে একজন বহুমুখী সামাজিক উদ্যোক্তার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

নবীজির মদিনা-জীবন একজন সামাজিক উদ্যোক্তার সবচে উজ্জ্বল উদাহরণ। কৃষিনির্ভর মদিনার সমাজে তিনি নানাভাবে কৃষিকে উৎসাহ দিয়েছেন, খেজুর ও অন্যান্য ফল-ফসল উৎপাদনে নতুন নতুন উদ্যোগের ঝুঁকি গ্রহণ করেছেন। দারিদ্রক্লিষ্ট মদিনায় নতুন করে মুহাজির সাহাবিদের আগমনে খাদ্যশস্য ও খাদ্যপণ্যে ঘাটতি দেখা দেয়া স্বাভাবিক। এ জন্য নবীজি মক্কার মুহাজির সাহাবিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন মদিনার কৃষক সাহাবিদের সঙ্গে মিলে কৃষি ও ব্যবসায় সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের।

নবীজির জীবন থেকে এমন আরও শত শত উদাহরণ দেয়া যাবে একজন সফল ব্যবসায়িক ও সামাজিক উদ্যোক্তার। তার জীবনটাই উদাহরণীয়। কিন্তু সেই দৃষ্টিতে তাকে দেখার সক্ষমতা আমাদের ক’জনের আছে?

আলহামদুলিল্লাহ! বন্ধুবর Miraj Rahman (মিরাজ রহমান) ভাই আমাদের সামনে তুলে এনেছেন নবীজির সেই আনোখা জীবন ‘গ্রেটেস্ট অন্টারপ্রেনর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

এই বইয়ের কনসেপ্ট তার মুখে প্রথম শুনে চমকে গিয়ে ভেবেছিলাম, সত্যিই তো, নবীজির চেয়ে বড় উদ্যোক্তা আর কে আছেন? কীভাবে তিনি আরবের বর্বর একটি সম্প্রদায়কে সামাজিকতা, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প-সংস্কৃতিতে মাত্র ২৩ বছরে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিলেন! কী ছিল সেই জাদু? কী ছিল তার উদ্যোক্তা-জীবনের সফলতা? কীভাবে তিনি সমগ্র আরবকে এত অল্প সময়ে তার নীতির সামনে নতজানু করতে পেরেছিলেন?

পৃথিবীতে নবীজির এই উদ্যোক্তা জীবন নিয়ে কোনো বই প্রকাশ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। মিরাজ ভাই নবীজির অভিনব এক জীবন আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন। এ কেবল মিরাজ ভাইয়ের মতো যশস্বী ও চিন্তাশীল লেখকের পক্ষেই সম্ভব।


Leave a Reply

Your email address will not be published.